Published : 23 Sep 2015, 10:05 PM

পরে তরফদার রুহুল আমিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগামী দুই বছর জেটি দুটিতে কন্টেইনার ওঠানামার জন্য ৪৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা দর দিয়েছিলাম। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর বুধবার বিকেলে এনসিটির দুই ও তিন নম্বর জেটি পরিচালনার চুক্তি হয়েছে।”
গত ১০ জুন এনসিটির এই জেটি দুটি পরিচালনার জন্য দরপত্র জমা নেওয়া হয়। এই দরপত্র প্রক্রিয়ায় মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
এরআগে গত ২৫ জুন এনসিটির চার ও পাঁচ নম্বর জেটি দুটি দুই বছরের জন্য পরিচালনা করতে বন্দরের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে সাইফ পাওয়ার।
ওই দুটি জেটি পরিচালনা কাজে সাইফ পাওয়ারের অংশীদার চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের মালিকানাধীন এমএইচ চৌধুরী লিমিটেড এবং নোয়াখালীর সাংসদ একরামুল করিমের মালিকানাধীন এ অ্যান্ড জে ট্রেডার্স।
চার ও পাঁচ নম্বর জেটি পরিচালনায় সাইফ পাওয়ার দর দিয়েছিল ৪৯ কোটি ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।
তরফদার রুহুল আমিন বলেন, “চার ও পাঁচ নম্বর জেটিতে কন্টেইনার ওঠানামার কাজ আগামী ১ অক্টোবর শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। আজ যে দুটি জেটি পরিচালনায় চুক্তি হলো সেগুলোতেও আগামী ১২০ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করার শর্ত রয়েছে।”
এনসিটির ১ ও ২ নম্বর জেটি দুটি আগে থেকেই কন্টেইনার ওঠানামার কাজ করত সাইফ পাওয়ার।
এনসিটির পাঁচটি জেটির মধ্যে প্রথম ধাপে চার ও পাঁচ নম্বর এবং দ্বিতীয় ধাপে দুই ও তিন নম্বর জেটি পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি অপারেটরকে দেওয়া হলো।
এনসিটির এক নম্বর জেটিটি পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনালে নৌ পথে কন্টেইনার পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হবে।
বেসরকারি বার্থ অপারেটর সাইফ পাওয়ার টেক চট্টগ্রাম বন্দরের চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং আইসিডিও পরিচালনা করে।
২০০৬ সালে বিনা দরপত্রে প্রতিষ্ঠানটিকে ওই কাজ ‘পাইয়ে দেওয়ার’ অভিযোগে ‘বন্দর রক্ষা পরিষদের’ ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে সাইফ পাওয়ার টেকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী।
সাইফ পাওয়ার টেকের ‘অনিয়ম-দুর্নীতি’ তদন্তের দাবিতে গতবছর ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে সমাবেশ করেন মহিউদ্দিন। ওই সমাবেশে আ জ ম নাছির উদ্দিনও বক্তব্য দিয়েছিলেন।
এক কিলোমিটার দীর্ঘ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০১ সালে। এই জেটিতে বড় আকৃতির তিনটি জাহাজ ও মাঝারী আকৃতির পাঁচটি জাহাজ একসঙ্গে কনটেইনার ওঠানামা করতে পারে।