Published : 06 Jan 2026, 11:33 PM
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) পদ্ধতির প্রভাব কাজে লাগিয়ে দেশি মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদনকারীদের ‘সিন্ডিকেট’ দাম বাড়াচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা অস্বীকার করেছেন দেশি ফোন নির্মাতা কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তারা।
বাজারে মোবাইল ফোনের দাম বেড়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন আলোচনা ঘুরছে। মোবাইল ফোনের খুচরা বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের একটা অংশের দাবি সরকারের চালু করা এনইআইআর পদ্ধতির সুযোগ নিচ্ছেন দেশি হ্যান্ডসেট উৎপাদনকারীরা।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এসে এ বিষয়ে নিজেদের দায় অস্বীকার করে উল্টো ‘লোকসান’ গুণছেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এমআইওবি) নেতারা।
বিশ্ববাজারে মোবাইল হ্যান্ডসেটের যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি তাদের।
তবে যে হারে যন্ত্রাংশের দাম বেড়েছে সেই হারে তারা দাম বাড়াননি, ‘লোকসানটা’ নিজেদের ঘাড়েই নিয়েছেন, বলে দাবি এমআইওবি এর সভাপতি জাকারিয়া শহীদের।
এর আগে গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে এনইআইআর বাস্তবায়নের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে একাধিক সংবাদ সম্মেলনে এমআইওবি নেতারা আশ্বস্ত করেছিলেন যে, এনইআইআর বাস্তবায়নের ফলে হ্যান্ডসেটের দাম বাড়বে না। উল্টো তাদের কারখানাগুলো পুরোদমে চলা শুরু করলে হ্যান্ডসেটের দাম কমানোর পাশাপাশি রপ্তানিও করা যাবে।
এমআইওবি এর অর্থায়নে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি এনইআইআর বাস্তবায়ন করছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় এখনও রাস্তায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে গ্রে মার্কেটের ফোন ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)।
বিক্ষোভের মধ্যে এ নিয়ে বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
মঙ্গলবারও তারা যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদী মানববন্ধন করেছে।
গত ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর পদ্ধতি কার্যকর করেছে সরকার। সেদিনই আনঅফিসিয়াল হ্যান্ডসেট বিক্রেতা ‘গ্রে মার্কেটের’ ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি কার্যালয় হামলা চালায়। পরে এ ঘটনায় ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর থেকে গ্রেপ্তার ব্যবসায়ীদের মুক্তি, এনইআইআর স্থগিত করা, পুরনো ফোন আমদানির সুযোগ দেওয়াসহ কয়েকটি দাবিতে দফায় দফায় সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন, দোকান বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে গ্রে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।
দাম বাড়ছে? কী কারণ?
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গ্রে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ‘অবৈধ রুটে কর ফাঁকি’ দিয়ে নিম্নমানের, ক্লোনড, ব্যবহৃত ও পুরনো ফোন দেশের বাজারে ঢোকাচ্ছেন।
কর ফাঁকি বন্ধের পাশাপাশি নিম্নমানের ফোন দেশে ঢোকা বন্ধ করতে সরকার হ্যান্ডসেট নিবন্ধনে এনইআইআর পদ্ধতি কার্যকরের উদ্যোগ নেয়। এনইআইআর চালু হলে দেশে অবৈধ পথে আসা ফোনগুলো আর ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাবে অবৈধভাবে বিদেশ থেকে নিয়ে আসা পুরনো ফোনের ব্যবসাও।
অপরদিকে এমন পদক্ষেপের বিরোধিতা করে এমবিসিবির সভাপতি মো. আসলাম বিভিন্ন সময় বলেছেন, এনইআইআর চালু হলে মোবাইল ফোন ব্যবসা একটা সিন্ডিকেটের হাতে কুক্ষিগত হয়ে যাবে, বেড়ে যাবে মোবাইলের দাম।
এ সংগঠনের ব্যবসায়ীরা তাদের কর্মসূচিগুলোতে অভিযোগ করে আসছেন, দেশি মোবাইল নির্মাতারা দাম বাড়ানোর চক্রান্ত করছেন। তবে মোবাইল ফোনের দাম আদৌ কতোখানি বেড়েছে তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
দাম বাড়ানোর প্রশ্নে মঙ্গলবার দেশি হ্যান্ডসেট নির্মাতাদের সংগঠন এমআইওবির সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, “সম্প্রতি আলোচনায় দেখলাম যে এনইআইআর শুরু হতে না হাতেই দাম (মোবাইলের) বেড়েছে। ফেইসবুকে অনেকে তুলনা করে দেখাচ্ছে যে দাম বেড়েছে। আপনারা গুগল করে দেখতে পারেন যে মেমোরির প্রাইস যেটা ১০ ডলার ছিল সেটা এখন ৩৫ ডলার হয়ে গেছে। কারণ ফোর জি, ফাইভ জি মোবাইলের জন্য চিপসেট যে কোম্পানিগুলো তৈরি করে তাদের সক্ষমতা কিন্তু লিমিটেড। এখন তারা সব সক্ষমতা দিয়েছে এআই নির্ভর আইওটি ডিভাইস উৎপাদনে। এক ইউএসএ কয়েক বিলিয়ন ডলারের পকেট ক্যামেরা অর্ডার করেছে।”
তবে দাম যে হারে বাড়ার কথা সে হারে বাড়ানো হচ্ছে না দাবি করে এডিসন গ্রুপের (সিম্ফনি ফোন) এমডি জাকারিয়া শহীদ বলেন, “টেকনোলজি শিফট করার কারণে মেমোরির প্রাইস এত বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ফোর জি ফোনের দাম যে হারে বাড়ার কথা আমরা কিন্তু সে হারে বাড়াচ্ছি না। এই লোকসানটা আমরা নিচ্ছি। বৈশ্বিক দর যতটুকু বেড়েছে আমরা ততটুকুই ধাপে ধাপে বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি।”
এ ধারাবাহিক দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া এই বছর জুড়েই থাকবে তুলে ধরে তিনি বলেন, “আপনারা গুগল করে বৈশ্বিক বাজারে যাচাই করে দেখতে পারেন। এটা একটা ওপেন সিক্রেট, এটা যে কেউ চেক করতে পারে।”
দাম বাড়ানোর সঙ্গে এনইআইআর এর কোন সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।