Published : 20 Aug 2025, 01:09 AM
বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর ক্ষেত্রে জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) নিয়োগের বিষয়ে বুধবার সভা ডেকেছে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার এর মধ্যেই বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য জিএসএ নিয়োগের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
বুধবারের সভায় বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য জিএসএ নিয়োগের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও ধারণা করছেন তারা।
২০১৭ সালে বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনার শর্ত হিসেবে প্রত্যেকটি বিদেশি এয়ারলাইন্সের জন্য স্থানীয় জিএসএ নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিধানটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে এ খাতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
বর্তমানে দেশে ৭০টির বেশি বিদেশি এয়ারলাইনস স্থানীয় জিএসএর মাধ্যমে দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এয়ারলাইন্সের বিপণন, বিমানবন্দরে যাত্রী ও মালামাল ওঠানামায় সহায়তাসহ এয়ারলাইন্সগুলোর দৈনন্দিন কাজ পরিচালনায় নানা ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে আসছে এসব জিএসএ।
কুয়েত এয়ারওয়েজ, মালদিভিয়ান, থাই এয়ার এশিয়া ও এয়ার এশিয়ার এদেশীয় প্রতিনিধি বা জিএসএ হচ্ছে টাস গ্রুপ।
এই গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক বলছেন, “এই আইন সংশোধন হলে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো স্থানীয়ভাবে কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ পাবে।”
এয়ার টিকিটের দাম কমাতে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর অংশ হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিভিল এভিয়েশনের একজন কর্মকর্তা।
জিএসএর কারণে ফ্লাইটের টিকিটের দাম বেড়ে যায়- অনেকের এমন ধারণার পরিপ্রেক্ষিতে জিএসএ ব্যবসায়ী মজিবুল হক বলছেন, “এটা একটা ভুল ধারণা। জিএসএর কারণে ভাড়া বাড়ার সুযোগ নেই। জিএসএ শুধু এয়ারলাইন্সের প্রচার ও বিপণনে কাজ করে, টিকিট বিক্রি ও মূল্য নির্ধারণ পুরোপুরি এয়ারলাইন্সের হাতে।”
২০১৭ সালে এ আইন প্রণয়নের আগ পর্যন্ত বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো বাংলাদেশে শাখা অফিস খুলে ব্যবসা করতে পারতো। ওই সময় বেশ কিছু এয়ারলাইন্স হঠাৎ করে কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে অনেক যাত্রী প্রতারিত হন বলে অভিযোগ ওঠে।