Published : 01 Jul 2026, 11:14 PM
পারস্য উপসাগরের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বহুমুখী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পাকিস্তানের মার্কেট সেন্টিমেন্ট, দেশীয় বন্ড, ইক্যুয়িটি মার্কেট এবং বিদেশি বিনিয়োগে।
২০২৬ সালের আর্থিক বছরের শেষে এসে সবকিছুতেই ধস নেমেছে। আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় পাকিস্তানে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ২৮ শতাংশ কমে গেছে। দেশি শেয়ার ও বন্ড মার্কেট থেকেও মূলধন তুলে নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা বর্তমানে কিছুটা থেমে থাকলেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা, তা নিয়ে বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের অনেকেই অনিশ্চয়তায় আছেন।
উপসাগরীয় দেশগুলো (জিসিসি) থেকে পাকিস্তানের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে। ফলে ওই অঞ্চলে অর্থনীতিতে বিঘ্ন ঘটলে বা পরিস্থিতির অবনতি হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ থমকে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা পাকিস্তানের অন্যতম বড় বৈদেশিক আয়ের উৎস রেমিট্যান্স প্রবাহ ও প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এতে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়বে।
পাকিস্তানের স্টক এক্সচেঞ্জ যথেষ্ট ভাল চললেও তা এই অর্থবছরে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারছে না।
বেশিরভাগ বিশ্লেষকই বিশ্বাস করেন, শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ থাকার পরও পাকিস্তানে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি। বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ ও বিশাল বাণিজ্য ঘাটতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বড় বিনিয়োগে উচ্চ ঝুঁকি দেখছেন।
একজন বিশ্লেষক এও বলছেন যে, উপসাগরীয় যুদ্ধে পাকিস্তান জড়িত না থাকলেও দেশটি শান্তিচুক্তির মধ্যস্থতাকারী হিসাবে এ প্রক্রিয়ায় জড়িত। আর একারণেই উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থির পরিস্থিতি পাকিস্তানের জন্য বড় ঝুঁকি। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি ব্যর্থ হলে পাকিস্তান এর নেতিবাচক প্রভাবে ভুগতে পারে।
তবে কেউ কেউ আবার বিশ্বাস করেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের সমস্যায় পাকিস্তান জড়িত হওয়ার কারণে দেশটির অর্থনীতি উপকৃত হতে পারে। শান্তিচুক্তি সফল হলে পাকিস্তানের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আর্থিক সহায়তা ও ঋণ প্রাপ্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আবার সৌদি আরব, ইরান ও কাতারের সঙ্গে পাকিস্তানের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধি, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন পথ উন্মুক্ত হতে পারে।