Published : 30 Jan 2026, 07:05 PM
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের ধাক্কা সামলে ওঠার পাশাপাশি পোশাকের ব্যবসায় বাংলাদেশকেও টেক্কা দেওয়ার আশা করছে ভারত।
ওই চুক্তির আওতায় ভারত থেকে যেসব পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ দেশের বাজারে প্রবেশ করবে, তার অধিকাংশই বিশেষ সুবিধা পাবে।
ভারতীয় পোশাকপণ্যের ওপর ইউরোপের বিদ্যমান প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে।চামড়াজাত পণ্য, সামুদ্রিক পণ্য, হস্তশিল্প ও গয়নার মত ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানো হবে, বা বিনা শুল্কে প্রবেশাধিকার পাবে।
প্রায় দুই দশকের আলোচনার চূড়ান্ত পরিণতি দিয়ে গত মঙ্গলবার এই বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা।
ইউরোপীয় কাউন্সিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ভারতের সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে এটি ২০২৭ সালে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের জি নিউজ এক প্রতিবেদনে লিখেছে, এই চুক্তির ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের ব্যবসার বড় অংশ ভারতের দখলে চলে যাবে বলে দিল্লি আশা করছে।
১৯৭৫ সাল থেকে ইউরোপের এলডিসি বাণিজ্য সুবিধার আওতায় অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পেয়ে বাংলাদেশ ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছে। ডেনিম, ট্রাউজার ও টি-শার্টের মতো কিছু পণ্যে বাংলাদেশ চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ইইউতে শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। এর পর রয়েছে তুরস্ক, ভারত, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশের বেশি গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে, যার পরিমাণ ১ হাজার ৯৭১ কোটি ডলার।
ইইউর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তির পর দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেন, ভারত খুব দ্রুতই ইউরোপে টেক্সটাইল রপ্তানি ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০–৪০ বিলিয়ন ডলারে নিতে পারবে বলে তিনি আশা করছেন।
“আমাদের সব সময় জিজ্ঞেস করা হত, বাংলাদেশ কীভাবে ইউরোপে এত বেশি রপ্তানি করে। তারা শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত এবং ৩০ বিলিয়ন ডলারের বাজার দখল করেছিল।”
জি নিউজ লিখেছে, ইইউর বাজারে ভারতীয় পোশাক রপ্তানি বাড়লে প্রতিযোগিতামূলক দাম ও পণ্যের মানের কারণে বাংলাদেশ চাপে পড়বে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিজিএমইএ পরিচালক ও সুরমা গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল সামাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভারতের চেয়ে গার্মেন্টসে বাংলাদেশ ৪০ বছর এগিয়ে। দর, কাজের মান ও সক্ষমতায় তাদের চেয়ে বেশ শক্ত অবস্থানে আছি। তারা (ভারত) চাইলেই আমাদের মত বড় পরিসরে রপ্তানির সক্ষমতায় সহজে যেতে পারবে না, অনেক সময় লাগবে।
“বায়াররা সেদিকে সহজে যাবে না। ভারত যে পণ্য রপ্তানি করে ইইউতে, তার সঙ্গে আমাদের কমন হচ্ছে খুবই কম। আমরা লো ও মিড টাইপের পোশাক বানাই। নিটিংয়ে প্রায় সমান সমান। এজন্য একটু সজাগ থাকতে হবে।”
তবে প্রতিযোগিতা বাড়লে চাপ যে কিছুটা আসতে পারে, সে কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “বায়ায়ের দিক দিয়ে ১০-১২ শতাংশ দর কমানোর জন্য একটি চাপ আসতে পারে। যদিও এটা বলতে আরো সময় লাগবে।”
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সামর্থ্যর সবটুকু কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফয়সাল বলেন, “খরচ কমানোর আর্থিক দিকগুলো বের করতে হবে। যেমন ঋণের সুদহার কমানো, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সুবিধা লাগবে।”
ভারত প্রায় এক যুগ চেষ্টা করে ইউরোপের বাজারে এই সুবিধা পেতে যাচ্ছে, সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদেরও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে। তারা (ভারত) কর্মসংস্থানের জন্য বস্ত্র খাতে বিভিন্ন হারে প্রণোদনা দিয়ে আসছে অনেক দিন ধরে। আমাদেরও উপায় বের করতে হবে।”