Published : 29 Jun 2026, 09:57 PM
তখনও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়নি জুলিয়ানো সিমেওনের। ক্লাবের হয়ে খেলার সময় গুরুতর এক চোটে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়তে হয় তাকে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে করে ফেলেন একটি সংকল্প- যেকোনো মূল্যে খেলতে হবে ২০২৬ বিশ্বকাপে। পরিবারকে দেওয়া তার সেই প্রতিশ্রুতিই তিন বছর পর এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই ম্যাচে খেলার সুযোগ মেলেনি জুলিয়ানোর। গত রোববার গ্রুপের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে শুরুর একাদশে নেমে বিশ্ব মঞ্চে অভিষেক হয় ২৩ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের।
ম্যাচের কয়েক ঘন্টা পর নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন ভিডিও পোস্ট করেন জুলিয়ানো। সেখানেই উঠে আসে তিন বছর আগে করা সেই প্রতিশ্রুতির কথা।
আতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে ধারে আলাভেসের হয়ে খেলার সময় ২০২৩ সালের অগাস্টের শুরুতে প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচে চোট পান জুলিয়ানো। তার পায়ের ফিবুলা ভেঙে যায় এবং অ্যাঙ্কেল স্থানচ্যুত হয়।
হাসপাতালে যখন তার চিকিৎসা চলছিল, চোট পাওয়ার ঠিক একদিন পর ‘জুলিয়ানো ওয়ার্ক টিম’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জুলিয়ানো লেখেন, “আমি আপনাদের শুধু একটি কথাই বলব: আমি পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলব।” চোট পাওয়ার দিনটির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, “দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস রাখছি। ০৬/০৮/২০২৩।”
সেই একই কথোপকথনে, আরও এক ধাপ এগিয়ে জুলিয়ানো লেখেন, “আমি তোমাদের বলছি, শেষ পর্যন্ত আমার পাশে থাকো, আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি।”
জুলিয়ানোর এই লক্ষ্য পূরণ করা সেই সময়ে অসম্ভব বলেই মনে হয়েছিল। তবে তিনি নিজে বিশ্বাস হারাননি। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরেন, আলাভেস থেকে ফিরে আসেন আতলেতিকো মাদ্রিদে, যে দলের কোচ তার বাবা ও সাবেক আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার দিয়েগো সিমেওনে।
ক্লাবের হয়ে আলো ছড়িয়ে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয় তার। শেষ পর্যন্ত জায়গা করে নেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দলে।
হাসপাতালের বিছানা থেকে করা জুলিয়ানোর সেই প্রতিশ্রুতি তিন বছর পর ঠিকই সত্যি হলো। যন্ত্রণার মাঝে লেখা তার সেই কথা বাস্তবে পরিণত হলো। পূরণ হলো বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন।