ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করে দেখল গ্রামীণফোন

শিগগিরই অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করে দেখার কথা জানিয়েছে দেশের শীর্ষ এ মোবাইল ফোন অপারেটর।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 July 2022, 03:02 PM
Updated : 26 July 2022, 03:02 PM

দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন পরীক্ষামূলকভাবে তাদের ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

মঙ্গলবার গ্রামীণফোনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রামে তাদের ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের এই ‘ট্রায়াল’ পরিচালনা করা হয়।

ফাইভ-জি হল মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির পঞ্চম প্রজন্ম। এর মাধ্যমে অনেক দ্রুত গতিতে ইন্টারনেটে তথ্য আদানপ্রদান করা যায়। এর সেবার আওতাও অনেক বিস্তৃত। বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে মোবাইল ফোন সেবায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমানসহ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঢাকার জিপি হাউজের ইনোভেশন ল্যাবে এই ফাইভজি ট্রায়ালের অভিজ্ঞতা নেন।

“ইনোভেশন ল্যাবটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যেখান থেকে ধাপে ধাপে ফাইভজি টেস্ট ও এর ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে।”

চট্টগ্রামে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলে পাহাড়তলিতে গ্রামীণফোনের কার্যালয়ে।

শিগগিরই অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করে দেখার কথা জানানো হয়েছে গ্রামীণফোনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

সেখানে বলা হয়, “যুগান্তকারী ফাইভ-জি প্রযুক্তি বিভিন্ন শিল্পখাত, সমাজিক উন্নয়ন এবং মানুষের দৈনন্দিন পথচলার অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করতে এমন সব সম্ভাবনা ও সুযোগ তৈরি করবে, যা আগে দেখা যায়নি।”

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, সুরক্ষিত ও টেকসই ভবিষ্যৎ তৈরি হবে বলে গ্রামীণফোন আশা করে।

ইয়াসির আজমান বলেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সম্ভাবনা উন্মোচনের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যপূরণে আমরা ফাইভ-জি কানেকটিভিটি ও এর ইউজ কেসের ট্রায়াল পরিচালনা করছি।

“আমি বাংলাদেশ সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, নেটওয়ার্ক পার্টনার, ইকোসিস্টেম প্লেয়ার এবং গ্রামীণফোন টিমের সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই – সবাই একসাথে আগামী দিনের কানেক্টিভিটিকে (ফাইভজি) সম্ভাবনায় পরিণত করেছেন। ফাইভজির ট্রায়াল পরিচালনা ও ফাইভজির চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করতে আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে প্রত্যাশী।”

দেশজুড়ে বিস্তৃত ফোর-জি নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে গ্রামীণফোন কাজ করছে জানিয়ে, তিনি বলেন, “আমরা ভবিষ্যতের সক্ষমতা তৈরি, ফাইভ-জি ইকোসিস্টেম বিনির্মাণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি, ব্লকচেইন ও রোবোটিকসের মাধ্যমে শিল্পখাতের জন্য বিভিন্ন সল্যুশন নিয়ে আসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

টেলিনর গ্রুপের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে উদ্ভাবনী নানা সেবা নিয়ে আসতে গ্রামীণফোন তার দক্ষতার পূর্ণ ব্যবহার করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী।

“এসব সল্যুশন প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশের ডিজিটাল সমাজ ও অর্থনীতির অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে প্রাসঙ্গিক ভূমিকা রাখবে। আমাদের বিশ্বাস, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে আসবে এবং প্রযুক্তিগত সল্যুশনের মাধ্যমে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুযোগ উন্মোচন এবং এর সদ্ব্যবহার করবে।”

এর আগে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিকম অপারেটর ‘টেলিটক’ গত ডিসেম্বরে পরীক্ষামূলক ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক চালু করে এবং তারা এরইমধ্যে এই নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির বাণিজ্যিক সেবা শুরু করেছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক