চলতি বছরের ১৫ ডিসেম্বর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে মিল চালুর ঘোষণা দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
Published : 03 Jan 2025, 09:29 AM
চার বছর বন্ধ থাকার পর আবার আখ মাড়াই তথা চিনি উৎপাদনে যাচ্ছে দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ সুগার মিল। চিনিকলটি জেলায় সরকারি ভারী শিল্পের একমাত্র প্রতিষ্ঠান। তাই সেটি পুনরায় চালুর সংবাদে শ্রমিক-কর্মচারীসহ এলাকার মানুষের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
আখ সরবরাহে স্বল্পতা এবং লোকসানের অজুহাতে ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার মিলের আখ মাড়াই স্থগিত করেছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ- বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে এবং রাজনৈতিক কারণে মিলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
তবে গণআন্দোলনে সরকার বদলের পর চলতি বছরের ১৫ ডিসেম্বর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে মিল চালুর ঘোষণা দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সেতাবগঞ্জ সুগার মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, “২৭ বছর এই মিলে চাকরি করা একজন শ্রমিক হিসাবে সচল মিলটি হঠাৎ করেই বন্ধের সংবাদে যেমন অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিলাম, তেমনি আবার চালু হচ্ছে জেনে আমরা উৎফুল্ল।”
একই মনোভাব ব্যক্ত করে অপর শ্রমিক প্রশান্ত কুমার চৌহান বলেন, “আখ মাড়াই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি অভিনন্দন জানাই। আগামী মৌসুমেই যেন আখ মাড়াই করা যায় সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।”
সেতাবগঞ্জ সুগার মিলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৩৩ সালে। তবে জরাজীর্ণ ও পুরাতন হওয়ায় মাঝে ১৯৭৫ সালে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর ১৯৮২ সালে নতুন করে সাড়ে ১২ হাজার টন চিনি উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন মিলটি আবার চালু হয়। তখন থেকে ২০১৯-২০২০ মাড়াই মৌসুম পর্যন্ত চিনি উৎপাদন অব্যাহত ছিল।
কিন্তু ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন সরকার আখ মাড়াই স্থগিত করে দেয়। তখন থেকেই মিলটির কাজ বন্ধ রয়েছে।
তবে স্থানীয় আখচাষি এম ওয়ালী এবং সোহাগ হোসেন অভিযোগ করেন- পুরোপুরি সচল থাকা মিলটি বন্ধের পিছনে রাজনৈতিক কারণ ছিল। মূলত মিলের সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল একটি গোষ্ঠী।
আখচাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মামুন অভিযোগ করেন, “বন্ধের পর মিলটি এস আলম গ্রুপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং আমাদের আখ চাষের জন্য প্রস্তাবও দিয়েছিল। আমরা সে সময় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলাম আখ মাড়াই ছাড়া এখানে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত হলে আমরা প্রতিহত করব।”
মামুন বলেন, “আখ স্বল্পতার কারণে কোনো কালেই মাড়াই বন্ধ হয়নি। উৎপাদন খরচ বেশি দেখিয়ে লোকসান দেখানো হয়েছিল। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর আমরা আখচাষিরা আগামী মৌসুমে মাড়াইয়ের আশায় আখ রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
কবে নাগাদ আখ মাড়াইয়ে যাওয়া সম্ভব হবে এমন প্রশ্নে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল বাশার বলেন, “স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর এরই মধ্যে এই মিলটি আবার চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আখ রোপণ এবং মিলের মেরামত একসঙ্গে শুরু করতে হবে।
“যেহেতু পর্যাপ্ত আখ সরবরাহের উপর নির্ভর করছে মাড়াই শুরুর কার্যক্রম। সে লক্ষ্যে এ বছরেই ২০২৪-২৫ মৌসুমে আখ রোপণ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।”
পর্যাপ্ত আখ রোপণ হলে আগামী বছরে অথবা পরের বছরে উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে বলে জানান ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল বাশার।
আগের সংবাদ-
আরও দুটি চিনিকল চালুর খবরে আখচাষিদের উচ্ছ্বাস
ধ্বংসস্তূপের পথে শ্যামপুর চিনিকল, তবু আশায় আখচাষি
৪২০০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে দর্শনা চিনিকলে আখ মাড়াই শুরু