Published : 15 May 2026, 09:42 PM
সরবরাহ বাড়ায় কয়েক পদের সবজির দর কিছুটা কমলেও আগের সপ্তাহে হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়া ডিম বাড়তি দরেই বিক্রি হচ্ছে রাজধানীর বাজারগুলোতে।
শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, কাপ্তান বাজার ও সেগুন বাগিচা কাঁচাবাজারে মুরগি, গরুর মাংস ও বেশির ভাগ মাছের দাম আগের সপ্তাহের মতই আছে।
শুক্রবার যাত্রাবাড়ী বাজারে কথা হয় ডিম ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন টিটুর সঙ্গে। তিনি বলেন, “ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা। তবে এক হালি নিলে দাম পড়ছে ৫০ টাকা।’’
তার দাবি, পাইকারি পর্যায়ে ডিমের দাম বেড়ে গেছে। তাই খুচরা পর্যায়েও বেশি দামে ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে।
গত সপ্তাহের মত একই দামে ডিম বিক্রির তথ্য দিয়ে বাজারের আরেক বিক্রেতা আবুল হাসান বলেন, “গরমে ডিম কম বিক্রি হয়। গত তিনদিন বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বিক্রি বেড়েছে হোটেলগুলোতে, তারাই বেশি কিনেছে। এখন তো ডিম নষ্ট হয় বেশি। কিন্তু ফ্রিজে রাখায় পাইকাররা বাজারে ডিম ছাড়তাছে কম। এ কারণে দাম বাইড়া গেছে।’’
গত সপ্তাহে হঠাৎই ডিমের দাম ডজনে অন্তত ১০ টাকা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় পৌঁছায়। প্রতিটি ডিমের দাম ১১ টাকা থেকে রাতারাতি হয়ে যায় ১৩ টাকা। সেই দাম এখনো কমেনি।
এ বাজারে কিছু সবজির দাম আগের সপ্তাহের চেয়ে খানিকটা কম দেখা গেছে। জসিম উদ্দিন নামে এক বিক্রেতা বললেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে দাম একশ টাকার ঘরে যাওয়া পেঁপে এখন বিক্রি হয় ৮০ টাকা কেজি দরে।

যেসব সবজির দাম কিছুটা কমেছে তার মধ্যে আছে ধুন্দল, ঝিঙা, বেগুন, পটল, কাকরোল, বরবটি, লাউ ও শসা। তবে আগের সপ্তাহের মত একই দরে বিক্রি হয় ঢেঁড়স, আলু ও করলা। কেজি প্রতি ৩০-৪০ টাকা দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের।
শনির আখাড়া বাজারে করলা প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রির তথ্য দিয়ে বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, গত সপ্তাহেও এই দরে করলা বিক্রি করেছেন তিনি।
এ বাজারে আগের সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ২০ টাকা কমে গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে লম্বা বেগুন ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার কথা বললেন বিক্রেতারা।
মাঝারি আকারের প্রতিটি লাউ সেগুন বাগিচা কাঁচাবাজারে শুক্রবার বিক্রি হয় ৪০ টাকা দরে। গত সপ্তাহে একই লাউ বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়।
এ বাজারের সবজি বিক্রেতা নুরউদ্দিন বলেন, ঢেঁড়সের কেজি ৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে মানভেদে ঢেঁড়শের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকা।
আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে দাম ৩০ টাকা বেড়ে সেগুন বাগিচা বাজারে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। তবে আগের সপ্তাহের দরেই ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে পটল।
অন্যদিকে আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪০ টাকা কমে প্রতি কেজি দেশি শসা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। হাইব্রিড শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে।

সেগুন বাগিচা বাজারে আগের সপ্তাহের মতই বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। তবে ‘আগুন জ্বলছে’ কাঁচামরিচের বাজারে। কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ।
মাছ ও মাংসের দাম গত সপ্তাহের মতই দেখা গেছে। শনির আখড়া ও সেগুন বাগিচায় প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। আগের সপ্তাহেও দাম ছিল একই রকম।
কাপ্তান বাজারে ছাগলের মাংস আগের দরে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেখানে খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন আব্দুস সাত্তার।
এ বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। আগের সপ্তাহেও একই দর ছিল।
সেগুন বাগিচা বাজারে বিক্রেতা সোহরাব মিয়া চাষের বড় আকারের তেলাপিয়া মাছের কেজি বিক্রি করছিলেন ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। মাঝারি আকারের প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। আগের সপ্তাহেও এ দুটি মাছের দাম একইরকম ছিল।

শনির আখড়া বাজারের বিক্রেতা মোহাম্মদ জসিম বলেছে, ছোট আকারের প্রতি কেজি শিং মাছ তিনি ২৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। বড় আকারের শিংয়ের দাম পড়ছে ৪০০ টাকা কেজি। বড় আকারের রুই মাছের দাম প্রতি কেজি ৫০০ টাকা। এসব মাছ গত সপ্তাহেও একই দামে বিক্রি হয়েছে।
তবে এ বাজারে মলা মাছের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ২০০ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে মলার কেজি ৬০০ টাকা থাকলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। এছাড়া বাটা মাছ আগের মত ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, সরপুঁটি ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
যাত্রবাড়ীতে চাষের পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়; আগের সপ্তাহে ছিল ৩০০ টাকা। তবে দেশি জাতের পাবদা আগের মত ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
একই বাজারে আগের মত ২২০ টাকা কেজিতে সিলভার কার্প এবং ১৮০ টাকায় পাঙ্গাস মিলছে। দুই কেজি ওজনের চাষের রুই প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহের মতই চিতল মাছ ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন মুন্সি আফজাল। টেংরা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়।