১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ উন্মুক্ত করার দাবি পাম্প মালিকদের

গাড়ির ধরন অনুযায়ী দৈনিক ট্রিপপ্রতি সরবরাহের পরিমাণ ঠিক করে দিয়েছে বিপিসি।

পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ উন্মুক্ত করার দাবি পাম্প মালিকদের
জ্বালানি তেলের সংকট হতে পারে, এমন আশঙ্কায় শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে ভিড় করেন শতশত মোটরসাইকেল চালক। ছবি: আব্দুল্লাহ আল মমীন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Mar 2026, 11:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:07 PM

দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং চালুর পর ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে পাম্পগুলোতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা সমাধানে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটারস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন মঙ্গলবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিপি) চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে এ দাবি জানায়।

সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, দ্রুত পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ উন্মুক্ত করা হলে পাম্পে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির ‘চাপ কমবে’ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘আস্থা ফিরবে’।

ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ার পর গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা বিভিন্ন শহরের পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় তেল নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।

এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গাড়ির ধরন অনুযায়ী দৈনিক ট্রিপপ্রতি সরবরাহের পরিমাণ ঠিক করে দিয়েছে বিপিসি।

এ নির্দেশনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেট কারে ১০ লিটার এবং এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার অকটেন বা পেট্রোল দেওয়া যাবে।

ডিজেলচালিত পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল দেওয়া যাবে।

মঙ্গলবার রাইড শেয়ারিংয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের জন্য সেই সীমা বাড়িয়ে দিনে ৫ লিটার করা হয়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের প্রকৃত সংকট নেই; বরং যুদ্ধ পরিস্থিতির খবরে আতঙ্কিত হয়ে অনেক চালক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে ট্যাংক ভরছেন। এতে পাম্পে হঠাৎ চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। 

এ অবস্থায় পাম্প মালিকদের সংগঠনটি মনে করছে, ডিপো পর্যায়ে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ উন্মুক্ত করা হলে পাম্পে ‘ভিড় কমবে’ এবং বাজারে তৈরি হওয়া উদ্বেগও অনেকটা ‘কমে আসবে’।

পেট্রোল ও অকটেনের সিংহভাগ দেশেই উৎপাদিত হয় তুলে ধরে পাম্প মালিকরা দাবি করেছেন, এ দুই ধরনের জ্বালানির সরবরাহ উন্মুক্ত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির প্রায় ৮০ শতাংশ সমস্যার ‘সমাধান’ হতে পারে।

পেট্রোল ও অকটেনের রেশনিং চালু থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না মন্তব্য করে তারা দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।