Published : 07 May 2026, 05:39 PM
উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের (জেট এ-১ বা জেট ফুয়েল) দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২২৭ টাকা ৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাতে লিটারে দাম কমেছে ২১ টাকা ৬৩ পয়সা।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের জন্য শুল্ক ও মূসকমুক্ত জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার ১ দশমিক ৪৮ ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৩৪ ডলার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিইআরসির এক আদেশে নতুন মূল্যহার নির্ধারণের কথা জানানো হয়।
নতুন দর এদিন রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই মূল্যহার বহাল থাকবে।
বিইআরসি বলছে, ২০২৫ সালের ১৩ মে জারি করা কমিশনের আদেশ অনুযায়ী মাসভিত্তিতে প্ল্যাটস রেটের ভিত্তিতে জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।
সেই আদেশের অনুচ্ছেদ ৯.২ অনুযায়ী ৫ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত সময়ে জেট এ-১ এর প্রকাশিত প্ল্যাটস রেটের গড় বিবেচনায় মে মাসের জন্য নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলসি সেটেলমেন্টে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং ডিজেলের মূল্য পরিবর্তনের কারণে কোস্টাল ট্যাংকার ও ট্যাংক লরির পরিবহন চার্জের পরিবর্তনও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এর আগে জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয়ের জন্য ২০২৫ সালের ২৫ মে একটি কমিটি করে কমিশন। ওই কমিটি ৫ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত সময়ের প্ল্যাটস রেট, ডলারের বিনিময় হার এবং পরিবহন ব্যয়ের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে বৃহস্পতিবার মে মাসের প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেয়।
বৃহস্পতিবারই ওই প্রতিবেদনের ওপর কমিশনে শুনানি হয়। এরপর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য নতুন মূল্যহার সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বিইআরসি।
অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য এই দর প্রযোজ্য হবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যশোর বিমানবন্দর, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দেশি ও বিদেশি ক্রেতাদের জন্য নতুন দর প্রযোজ্য হবে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে।
এর আগে এপ্রিলে জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়েছিল বিইআরসি। ৭ এপ্রিল অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২২৭ টাকা ৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। আন্তর্জাতিক রুটে লিটারে দাম বাড়িয়ে করা হয় ১ দশমিক ৪৮ ডলার।
তার আগে ২৪ মার্চ অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা করা হয়। আন্তর্জাতিক রুটে দাম বাড়ানো হয় ০ দশমিক ৭৪ ডলার থেকে ১ দশমিক ৩২ ডলারে।
মার্চের শুরুতেও জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। ৮ মার্চ অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার দাম ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা এবং আন্তর্জাতিক রুটে ০ দশমিক ৬২ ডলার থেকে ০ দশমিক ৭৩৮৪ ডলার নির্ধারণ করে বিইআরসি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা। ফেব্রুয়ারিতে তা ১৯ পয়সা বাড়িয়ে ৯৫ টাকা ১২ পয়সা করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল বলে এর আগে জানিয়েছিল বিইআরসি।
মার্চে বড় উল্লম্ফনের পর এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, এওএবি মূল্যবৃদ্ধিকে ‘অযৌক্তিক’ বলেও মন্তব্য করেছিল।