Published : 24 Mar 2026, 08:43 PM
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের আগে জাতীয় সংসদে আলোচনার পরিকল্পনার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
ওই চুক্তি বাস্তবায়নের আগে আলোচনা প্রসঙ্গে এমন প্রশ্নে মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে তিনি বলেন, “এই চুক্তি না, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের আরও অনেক চুক্তি আছে বিভিন্নভাবে; ট্রেডে আছে, অন্য জায়গায় আছে।
“যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এসব চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করে, বাংলাদেশের মানুষকে সরাসরি প্রভাবিত করে, বিশেষ করে করে আমাদের বেসরকারি খাতকে প্রভাবিত করে। সুতরাং এর প্রত্যেকটা চুক্তি আমাদের বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে আমরা বাস্তবায়নে যাব এবং বাস্তবায়নে যাওয়ার আগে অবশ্যই এটা নিয়ে আলোচনা হবে।”
সেই আলোচনা জাতীয় সংসদে হবে কি-না, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অবশ্যই হবে। পার্লামেন্টে হবে, পার্লামেন্টের বাইরে হবে, আলোচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও যদি আলোচনা করা থাকে, সেটাও হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে।
পরে দর কষাকষিতে এ হার ২০ শতাংশ নামে, যা ১ অগাস্ট কার্যকর হয়। আর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক; সব মিলিয়ে শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ।
এরপর নয় মাসের দীর্ঘ আলোচনার ফল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক নিয়ে চুক্তি করে বাংলাদেশ; যাতে আগের চেয়ে শুল্কহার কমে ১ শতাংশ।
ওই চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও পণ্য কিনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইতোমধধ্যে গম আমদানি বাড়ানো হয়েছে। তুলা ও সয়াবিনসহ আরও পণ্য আমদানি বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষের তিন দিন আগে হওয়া এই চুক্তির সমালোচনা করেছেন অনেকে।
একটি অনির্বাচিত সরকার হয়েও বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তা দেখে ‘হতভম্ব’ ও ‘স্তম্ভিত’ হওয়ার কথা বলেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি।
২৮ ফেব্রুয়ারি সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এ ধরনের একটি চুক্তি কীভাবে একটি সরকার, অনির্বাচিত সরকার করে যেতে পারে, যার দায় চাপবে নির্বাচিত সরকারের ওপর!”
ওই চুক্তি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি বলেন, বাণিজ্য চুক্তি করার আগে এ বিষয়ে ‘বিএনপি ও জামায়াত সম্মতি দিয়েছিল’।
“ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিল। সুতরাং এমন না যে, এইটা আমরা অন্ধকারে করেছি।”
খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির আগে দরকষাকষিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনি ছিলেন প্রধান ভূমিকায়।
তার ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কয়েকটি চুক্তি করলেও কোনো চুক্তি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ‘আলোচনা করেনি’।
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের ‘কথা বলা হয়েছে’ ভারতকে
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে বিএনপি সরকারের আলোচনা হওয়ার কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
আওয়ামী লীগ সভাপতিকে ফেরানোর বিষয়ে বিএনপি সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “দেখেন, আমরা সরকারে আসার পর এক মাস হয়েছে। সেই এক মাসের মধ্যে ভারতের হাই কমিশনারের সাথে আমাদের একাধিকবার বৈঠক হয়েছে, আপনারা দেখেছেন আমার সাথে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে মিটিং হয়েছে। এবং এই মিটিংয়ে এ কথা বলা হয়েছে।
“সুতরাং আমরা গত ১৭ বছরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আছে, বা তার সাজা হয়েছে, আরও যারা আছে পালিয়ে ভারতে, তাদের ব্যাপারেও আমরা কথা বলেছি।”
এ বিষয়ে ভারতকে কোনো চিঠি দেওয়া হয়েছে কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা তো কথাই বলেছি ডিরেক্টলি। এটার চলমান প্রক্রিয়া আছে ইতোমধ্যে।”
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যায় প্রধান সন্দেহভাজনসহ ভারতে গ্রেপ্তার দুজনের বিষয়ে ‘কনস্যুলার অ্যাক্সেস’ ১৬ দিনেও না পাওয়ার কথা বলেন শামা ওবায়েদ।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এইটার কিছু কাজ এখন আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চলমান আছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু কাজ আছে, সেটা তারা করে আমাদেরকে, এই যে দুজন অ্যারেস্ট হয়েছিল আগে সে দুজনের ব্যাপারে আমি বলছি, তারা আমাদেরকে দিলে আমরা সেইভাবে ভারতের সাথে কথা বলব এবং কনস্যুলার অ্যাক্সেস নিয়েও আমাদের কাজ চলছে।
“আমরা আশা করছি যে কনস্যুলার অ্যাক্সেস আমরা শিগগিরই পাব। সেটা নিয়ে তাদের সাথে আমাদের প্রক্রিয়া এবং কমিউনিকেশন চলমান আছে।”
কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেতে সময় লাগছে কেন জানতে চাইলে তিনি বরেন, “সেটা ভারত বলতে পারবে ভালো, কেন এতদিন সময় লাগছে। কিন্তু আমরা তাদেরকে পুশ করছি। যেহেতু এটা বাংলাদেশে বাংলাদেশের নাগরিক হত্যা হয়েছে এবং যদি হত্যাকারী ভারতে থেকে থাকে, ভারতে অ্যারেস্ট হয়ে থাকে, এই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা, সাজা দেওয়াটা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এই হাদি হত্যার ব্যাপারে। এবং সেটার বিচার আমরা নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ।”