Published : 03 Jan 2026, 11:12 PM
হঠাৎ করে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ সংকট ও দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে খাত সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বৈঠক করবেন জ্বালানি সচিব।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে শনিবার সন্ধ্যায় তার বাসায় মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রোববার বিকাল ৪টায় সচিবালয়ে জ্বালানি বিভাগে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে আমদানিকারক, বোতলজাতকারী কোম্পানির প্রতিনিধি, সরবরাহকারী, ডিলারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।
ব্যাপক দাম বেড়ে যাওয়া ও সরবরাহ সংকটের এমন প্রেক্ষাপটে আগের সূচি অনুযায়ী রোববার জানুয়ারি মাসের জন্য এলপিজি ও অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণের কথা রয়েছে।
বিকাল ৩টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘোষণা করা হবে দাম। সাধারণত ঘোষণা শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়।
এদিকে শনিবার উপদেষ্টার বাসায় এ নিয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বর্তমানে এলপিজির মজুতসহ লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ার বিষয়ে আলোচনা ও করণীয় নিয়ে কথা হয়।
রোববারের বৈঠকে খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বক্তব্য শোনার পর সরকার দাম নিয়ন্ত্রণে আনার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে শনিবারের বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা বলেছেন।
হঠাৎ করে কয়েক দিনের ব্যবধানে বাসা-বাড়িতে বেশি ব্যবহার হওয়া এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে কোথাও কোথাও প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ দাম বেশি দিয়েও তারা সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। এতে তারা বিপাকে পড়েছেন। সরবরাহ সংকটের কথা বলে দর বেশি রাখা হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন ডিলারদের ওপর। আর ডিলাররা দোষ দিচ্ছেন সরবরাহকারীদের।
এ বিষয়ে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির শনিবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর বলেন, “আমি বিষয়টা পরিষ্কারভাবে বুঝতে চেষ্টা করছি। আজ আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব, জ্বালানি সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে।”
তিনি বলেন, শনিবারের বৈঠকটি আনুষ্ঠানিক নয়। এলসি খোলা থাকলেও পণ্য না আসা, শিপিং ও সাপ্লাই চেইনসহ আরও কিছু বড় বিষয় আছে, এসব বোঝার জন্যই আলোচনা।
জ্বালানি খাতের মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ডিসেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছিল ১,২৫৩ টাকা।
কিন্তু রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় এ পরিমাণের গ্যাসের সিলিন্ডার ১,৮০০ থেকে ২,২০০ টাকা, কোথাও আরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
অনেক জায়গায় আবার বাড়তি দাম দিয়েও সিলিন্ডার মিলছে না। এতে বাসাবাড়িতে খাবার রান্না করা নিয়ে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন এলপিজি ব্যবহারকারীরা। পাইপলাইনের গ্যাস নেই কিংবা চাপ না থাকায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেই অনেকে এলপিজি ব্যবহার করে থাকেন।
হঠাৎ করে সংকট ও দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে খুচরা বিক্রেতারা ডিলারদের দোষ দিচ্ছেন।
এর বিপরীতে এলপিজি পরিবেশক ও অপারেটরগুলোর সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, গত মাসে (ডিসেম্বরে) আমদানি কমে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বিইআরসি চিঠি দিয়েছে লোয়াবকে
বিইআরসি ২০২১ সাল থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম ঘোষণা করে আসছে। তবে নির্ধারিত দামে খুচরা বাজারে বিক্রি নিশ্চিত করা নিয়ে সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার মুখে।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে বিইআরসি লোয়াবকে চিঠি দিয়ে মজুত, বোতলজাতকরণ, বিতরণ ও খুচরা বিক্রির সব স্তরে নির্ধারিত দাম মানতে বলেছে।
বাড়তি দামের বিষয়ে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ডিসেম্বরে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এলপিজির আমদানি কম হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন বলছে, এলসি খোলা থাকলেও পণ্য পাচ্ছে না, জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না।”
তিনি বলেন, “ফ্রেইট বা ভাড়া আগের তুলনায় বেড়েছে। আগে যেখানে সাধারণত ১০০ ডলারের মতো ছিল, তা এখন প্রায় ১৮০ ডলারে উঠেছে, এটাই বড় কারণ বলে মনে হচ্ছে।”
তার ভাষায়, “অ্যাসোসিয়েশন বলছে, উৎপাদক বা বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠান দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে না। কিন্তু ব্যবসায়ী ও ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি, তারা বোতলজাতকারী সরবরাহকারকদের কাছ থেকে সঠিক দামে পাচ্ছে না।”
আইন আছে, প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, দাম নির্ধারণের পাশাপাশি সেই দাম বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও বিইআরসির দায়িত্ব। কিন্তু সংস্থাটি তা ধারাবাহিকভাবে পালন করতে পারেনি।
ক্যাব (কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) বলেছে, অতিরিক্ত দামে বিক্রি আইনত অপরাধ হলেও শাস্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
তারা বলছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ অনুযায়ী কমিশনের আদেশ/নির্দেশ অমান্য করলে জরিমানা বা অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আছে। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারাতেও “ধার্য্যকৃত মূল্যের অধিক” দামে পণ্য বিক্রির জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।
কিছু এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হলেও তা নিয়মিত নয়, এমন অভিযোগও রয়েছে।
১২৫৩ টাকার এলপিজি ১৯০০, কোথাও ২২০০; সন্ধ্যায় বৈঠকে বসছেন উপদেষ্টা
চিনি, এলপিজিসহ নিত্যপণ্যের 'অস্বাভাবিক' দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ ক্যাবের