Published : 30 Apr 2026, 07:14 PM
সপ্তাহ দুয়েক আগে এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম অনেক বাড়ানোর পর মে মাসের জন্য ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের খুচরা দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার।
এতে ১ মে থেকে এসব জ্বালানি আগের নির্ধারিত দামেই বিক্রি হবে।
বৃহস্পতিবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ মাসওয়ারি তেলের দাম সমন্বয়ের অংশ হিসেবে দাম অপরিবর্তিত রাখার প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এতে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের লিটারপ্রতি বিক্রয়মূল্য ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০, পেট্রোল ১৩৫ ও অকটেন ১৪০ টাকা বহাল থাকবে।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার চড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে গত ১৮ এপ্রিল চার ধরনের তেলের নতুন দর বাড়ায় সরকার। তখন ডিজেলের লিটারপ্রতি দাম ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকা করা হয়।
সেই সময় দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে জ্বালানি মন্ত্রণালয় বিশ্ববাজারে মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দেশে ভোক্তা পর্যায়ে নতুন দাম ঠিক করার কথা বলেছিল।
পরে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, সরকার বাধ্য হয়েই তেলের দাম বাড়িয়েছে।
এর আগে কয়েক মাস ধরে এই চার ধরনের তেলের দাম খুব সামান্য সমন্বয় করা হয়েছিল। কখনও এক-দুই টাকা বাড়ানো বা কমানো হয়েছে। তবে ১৮ এপ্রিল এক লাফে ১০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়েছিল। এর আগে এপ্রিলের শুরুতে আগের দাম রাখা হয়ে ছিল।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে তেল আমদানি ব্যাহত হলে জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে দেশে রেশনিং করা শুরু হয়। তখন তেল সংকটের আশঙ্কায় সবাই পেট্রোল পাম্পে যেতে শুরু করলে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। দেশজুড়ে পাম্পগুলো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছিলেন না গ্রাহকরা।
পেট্রোল ও অকটেনের পর এক পর্যায়ে ডিজেলের জন্য হাহাকার তৈরি হয়। রাত-দিনের পুরোটা সময় অনেক পাম্পের সামনে লাইন দেখা যায়।
দাম বাড়িয়ে নতুন দর নির্ধারণের পর সরবরাহ বাড়ানো তেলের সংকট কাটতে শুরু করে। ফিলিং স্টেশনের সামনের লাইন কমে আসে।