Published : 17 Apr 2026, 10:56 PM
গেল সপ্তাহের তুলনায় দাম সামান্য কমলেও বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকার আশেপাশে রয়েছে, আর কিছু সবজি কিনতে ১০০ টাকাও গুনতে হচ্ছে।
সস্তার সবজি হিসেবে পরিচিত কাঁচা পেঁপের দাম এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
সবজির বাজারে যখন এ অবস্থা, তখন ডিমের দামও বাড়ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও সোনালি জাতের মুরগি বাড়তি দরেই বিক্রি হচ্ছে। গরু ও গরু মাংসের দর আগের মতো বাড়তিই আছে।
শুক্রবার মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজার, বছিলা, রায়েরবাজারের সাদেক খান কৃষি মার্কেট, মহাখালী ও যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার ঘুরে এই চিত্র পাওয়া গেছে। বাজারভেদে সবজির দরে দেখা গেছে ‘হেরফের’।
গত সপ্তাহে ঢেঁড়সের দাম ছিল প্রতি কেজি ৯০-১০০ টাকা। এদিন বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা কেজি। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে ঢেঁড়স কেজি প্রতি ৩০ টাকা কমেছে।
তবে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানগুলোতে আরো কম দামে কিনতে পারছেন ভোক্তারা।

অথচ সাদেক খান কৃষি মার্কেটের আড়তে প্রতি কেজি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়স।
সাদেক খান কৃষি মার্কেট আড়তের সবজি বিক্রেতা ইয়াসিন সাকি বিডিনিউজ টোয়ান্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভেন্ডি (ঢেঁড়শ) ৬০ দাম ছিল তিন দিন আগে; এখন ৩০ টাকা। পেঁপে, মন চাইলে ৪০ টাকায় নিতে পারেন।”
মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজারে এক কেজি পেঁপে কিনতে গুনতে হচ্ছে ৬০ টাকা। বছিলা ও মহাখালী কাঁচাবাজারে দাম আরও ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়তি।
এ বাজারের খুচরা বিক্রেতা রহিম মোল্লা বিডিনিউজ টোয়ান্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আড়তে দামের সঙ্গে মিলালে তো হয় না। গাড়ি ভাড়া বেশি। দোকান ভাড়া, পোলার (কর্মচারী) মজুরিও তো হিসাব করতে হয়।”
আগের সপ্তাহের দরে গোল বেগুন ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে। আর লম্বা বেগুনও আগের মতো ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে বাজারে প্রতি কেজি ঝিঙা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, শিম ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, শসা ৮০ টাকা কেজি ও প্রতিটি মাঝারি আকারের লাউ ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এর মধ্যে ঝিঙা ও ধুন্দলের দাম প্রতি কেজিতে ২০ টাকার মতো কমেছে। করলার দাম কমেছে ৪০ টাকা মতো। তবে বেড়েছে শসা ও পটল দাম।
যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের ক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, “গত সপ্তাহে তো অনেক বেশি ছিল। এখন যা আছে তা চলার মত। এই দরেই মানুষ কিনতে পারবো।”
এ বাজারের দোকানি মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাপ্লাই বাড়ছে, তাই দামও কমছে অনেকটির। খালি বেগুনের দাম কমে নাই।”
তবে মোহাম্মদপুরের বছিলা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা এরশাদ উল্লাহর দাবি, তেলের সংকটের কারণে গাড়ি ‘ভাড়া বেড়ে গেছে’। ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কম, দাম বেশি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আড়তে মাল পাই না। কারওয়ানবাজারে মালই আহে না। মাল আনি করাইতা (কেরানীগঞ্জ) থেকে। গৃহস্থের মাল।”
এ বাজারে পটল, ধুন্দল, পেঁপে ও বেগুন প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে করলা ১০০, বরবটি ৮০ ও টমেটো ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
শুধু আলু ও মিষ্টি কুমড়ার দাম স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি আলু ২০ ও মিষ্টি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকায় কিনতে পারছেন ভোক্তারা। রাজাধানীর সব বাজারে এই দুই পণ্যের দামে সমতা রয়েছে।
বছিলা কাঁচাবাজারের ক্রেতা সাদরুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোনো না কোনো অজুহাতেই দাম বাড়ে। কোনোকিছু ৭০/৮০ টাকার কমে পাওয়া যায় না।
“টাকা বাঁচাতে মাঝে মাঝে রাতের বেলা মোহাম্মদপুর আল্লাকরিম মসজিদের ওখান থেকে বাজার করি, ভ্যান থেকে কিনি। প্রতিটি সবজি ৫ থেকে ১০ টাকা কমে পাই,” বলেন তিনি।

বাড়ছে ডিমের দাম
গরমের প্রভাবে বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে, বলছেন বিক্রেতারা।
যাত্রাবাড়ী, মহাখালী ও মোহাম্মদপুর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ২০ টাকা কমে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
তবে সোনালি জাতের মুরগির দাম কমেনি, বাজারভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে ছিল ৪৫০ টাকা। আর লেয়ার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২৩০ টাকা কেজি দরে।
এছাড়া প্রতি ডজন খামারের ডিম কিনতে ভোক্তাকে খরচ করতে হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা। মোহাম্মদপুর ও যাত্রাবাড়ীতে এ ডিমের দাম প্রতি ডজনে ৫-১০ টাকা বেড়েছে।
সাদেক খান কৃষি মার্কেটের মুরগি ও ডিম বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দাম ওঠা-নামা করে। এক সপ্তা বাড়ে, এক সপ্তা কমে।”
ব্রয়লারের দাম কমার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “গরমে খামারিরা মুরগি ছেড়ে (দ্রুত বিক্রি করা) দিচ্ছেন। কারণ গরমে অনেক মুরগি মরে যায়।”

বাজারে গরুর মাংস আগের সপ্তাহের মতো ৮০০ টাকা ও ছাগলের মাংস ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। তবে দামাদামি করে ৩০ থেকে ৫০ টাকা কমে কিনতে পারছেন ক্রেতারা।
মাছের দামও আগের দরের চেয়ে কমেছে কিছুটা। যাত্রাবাড়ীতে ছোট রুই বা নলা মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ২৫০ টাকা কেজি।
এ বাজারে কেজিতে ১০ টাকা কমে তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা দরে। পাবদা আগের দর ৩৫০ টাকায় এবং পাঙাস কিছুটা বেড়ে ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। আগের দরে বড় রুই বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩৫০-৪২০ টাকা দরে।