Published : 12 Jul 2026, 12:12 AM
কারখানায় শ্রমিকদের তাপজনিত আঘাত ও অসুস্থতা প্রতিরোধের নির্দেশনা শ্রমবিধিতে যুক্ত করার দাবি তুলে ধরা হয়েছে রাজধানীতে এক আলোচনাসভায়।
শনিবার ঢাকার এক হোটেলে ওই সভায় মূল প্রবন্ধে ‘সলিডারিটি সেন্টার’ এর কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর একেএম নাসিম বলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রায় শ্রমিকদের সুরক্ষায় বাধ্যতামূলকভাবে তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ, বিরতি, নিরাপদ পানীয় জলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ পর্যালোচনা এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানে সুপারিশ’ শিরোনামে এ সভা আয়োজন করে ‘সলিডারিটি সেন্টার’।
সেখানে ঢাকার প্রথম শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান গোলাম আযম বলেন, “আমরা আইনের কলেবর বাড়াচ্ছি। কিন্তু আদালতের বিচারক হিসেবে দেখেছি কারখানার শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, রেজিস্ট্রার থাকে না।
“সার্ভিস বুক দেখলেই বুঝা যায় বেতন কত, ইনক্রিমেন্ট হয়েছে কিনা, আইনি অধিকার পাচ্ছে কিনা। আজ পর্যন্ত একটা মামলায় সার্ভিস বুক শো করেনি মালিকরা।”

শ্রম আইনের মামলার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে সভায় শ্রমিক নেতাদের অভিযোগের জবাবে গোলাম আযম বলেন, “একজন বিচারকের সর্বোচ্চ কতটি মামলা থাকবে এমন কোন বিধি আইনে আছে? একটা কোর্টে মামলা থাকে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার।
“আমরা ‘ওয়ার্কিং ডে’ পাই ২২ থেকে ২৩ দিন। একটি মামলায় সমন, শুনানি, সাক্ষী আছে। এরপর নিষ্পত্তি। তাহলে কতমাস পর একটি মামলার তারিখ পড়বে হিসাব কষেন। দিনে যদি ৫০টি মামলা রাখি মাসে কতটা হয়? এই জন্য আমাদের আইনগুলো এমনই হওয়া দরকার, যাতে সবকিছু ‘বাইন্ডিংস’ এর মধ্যে নিয়ে আসা যায়।”
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল উপস্থিত ছিলেন।