Published : 11 Nov 2025, 04:44 PM
দেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও জাতীয় উন্নয়নে এর অবদান তুলে ধরতে সংবাদমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার গুলশানের সিক্স সিজন হোটেলে ‘কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প: দেশের সার্বিক উন্নয়নে গণমাধ্যম কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে প্রাণ গ্রুপ।
এতে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, অনলাইন ও টেলিভিশনের ৪০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশের কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ খাত জিডিপি, রপ্তানি বৈচিত্র্য এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানে উল্লেযোগ্য অবদান রাখে। এর কৌশলগত গুরুত্বের পরও এটি সম্ভাবনার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে মূল্য সংযোজনসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে।
দেশে বর্তমানে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেটজাত খাবারের বাজারের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাত প্রায় ৬ বিলিয়নে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর কৃষি প্রক্রিয়াকরণ খাত বর্তমানে নগদ প্রণোদনা, আমদানিকৃত উপকরণের উপর শুল্ক ছাড়সহ যেসব সুবিধা ভোগ করছে তার উপর প্রভাব পড়তে পারে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এ খাতের সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য নানাবিধ সহায়তা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সুদের হার সমন্বয়ের মাধ্যমে কম খরচে অর্থায়ন, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রণোদনা।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, তাদের কোম্পানি শুরু থেকেই দেশের কৃষির উন্নয়নে কাজ করছে। বর্তমানে উৎপাদিত প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের অধিকাংশ কাঁচামাল স্থানীয়ভাবে কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং ১৪৮টি দেশে রপ্তানি হয়।
তার দাবি, বাংলাদেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের গুণমান এখন আন্তর্জাতিক মান অর্জন করেছে। দেশের গণমাধ্যম এই ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরলে দেশীয় ব্র্যান্ডের প্রতি মানুষের আস্থা আরো বাড়বে।
এ খাতকে এগিয়ে নিতে কাঁচামাল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত করা এবং এসব পণ্য বাজারজাত করার চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন তিনি।
ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদ বলেন, কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত খাতের সাফল্য, কৃষকদের গল্প, উদ্ভাবন ও বাজার সম্ভাবনা নিয়ে ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রচারণা দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।