Published : 28 Nov 2025, 10:06 PM
ঢাকার কাঁচাবাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনো নাগালে আসেনি। এক কেজি পুরান ও নতুন আলুর দামের পার্থক্য ১০০ টাকার মতো।
অপরদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দাম কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
সব ধরনের মাছের দাম কমে আসছে তুলে ধরে যাত্রাবাড়ীর বিক্রেতা সামছুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এক সপ্তাহ আগেও রুই ছিল ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি। আইজকা শুক্রবারও দাম ৩২০ টাকা কেজি। তারপরও দ্যাহেন মানুষ নাই।
“মাছ আছে ভাই, দামও তো কমাই দিতাছি। দ্যাহেন মানুষ কম। বাজারে মানুষ নাই।’’

সপ্তাহের অন্য দিনের চেয়ে সাপ্তহিক ছুটির দিন শুক্রবার সাধারণত বেচাকেনা বেশি হয়। এজন্য খুব ভোরেই পাইকারি বাজার থেকে মাছ কিনে যতটা আগে সম্ভব দোকান সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষা করেন খুচরা বিক্রেতারা।
হরেক পদের মাছের পসরা বসালেও, ক্রেতা আসছেন দরদাম করে চলে যাচ্ছেন বেশিরভাগ। পছন্দ হলে টুকটাক কিনছেন কেউ কেউ।
এক কেজি ওজনের তেলাপিয়া মাছ ১৩০ টাকায় কিনেছেন আব্দুল আলিম। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন তো তাজা তাজা সবজি। দেখেন বাজারের বেশি ক্রেতাই সেখানে। মাছের দোকানে মানুষ কম।
“সবজি কেনা শেষে মাছ পছন্দ হল, তাই কিনলাম। শুক্রবারতো বাসায় গোস্ত রান্না হয় বেশি। এটা (মাছ) আজকে রান্না না করলে কালকে তো করতে পারবে।”
দুই সপ্তাহ ধরেই চাষের তেলাপিয়া ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে খুচরা পর্যায়ে। শনির আখড়া বাজারের বিক্রেতা শাহিনুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গরিবের ‘খাসি’ পাঙ্গাসের দাম একই আছে, ১৮০ টাকায় নিতে পারবেন।”
আগের সপ্তাহেও মাছটি প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়।
শুক্রবার বড় শিং ৪০০ টাকা, চাপিলা ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। কয়েকদিন আগেও ৩০০ টাকার নিচে চাষের এ চাপিলা মাছের দরদাম করা যায়নি। শিং মাছের দর ছিল ৪৫০ টাকার ওপরে।
চাষের চিংড়ি প্রতি কেজি ৬০০-৭০০ টাকায় পাওয়া গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের মাছ তুল ডানডি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও মিঠা পানির এ মাছ বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকা কেজি দরে।
বড় শোল মাছ ৬০০-৭০০ টাকা ও টাকি মাছ প্রতি কেজি ২৫০-৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহের চেয়ে এ দুই পদের মাছের দাম কমেছে কেজি প্রতি ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।
আগের সপ্তাহে প্রতি কেজি চাষের পাবদা ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও তা শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায়। ছোট আকারেরটা বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকা কেজি দরে।

আর বড় জাতের পুঁটি ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, এ ধরনের মাছ ২৫০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না।
সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া নলা মাছ প্রতি কেজি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে; এক সপ্তাহ আগেও মাছটির দাম ছিল ৩৫০ টাকা কেজি।
ক্রেতা কেন কম, জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ীর কাঁচাবাজারের বিক্রেতা নজরুল গাজী বলেন, “শীতকালে মাছ একটু কম বিক্রি হয়। শুক্রবার বেশি বিক্রি হয়, আজ মনে হয় হবে না। সকাল থেকেই মানুষ কম। এক সপ্তাহে দাম কইমা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষও কইমা গেল।”
এ বাজারেও ৩০০-৩৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
অপরদিকে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও দামের ক্ষেত্রে তার প্রভাব দেখা যায়নি। আগের সপ্তাহের তুলনায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৬০ টাকা কমলেও তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই রয়েছে।
প্রায় সারা বছর সবজির দামে অস্বস্তিতে থাকা মানুষকে শুক্রবার এক কেজি নতুন আলু কিনতে খরচ করতে হয়েছে ১২০ টাকা।
শনি আখড়ার বিক্রেতা ইমরান হোসেন বললেন, আগের শুক্রবারে প্রতি কেজি নতুন আলুর দাম ছিল ১৮০-২০০ টাকা।
অবশ্য পুরান আলুর দর এখনো ২০ টাকাই আছে কেজি প্রতি।

যাত্রাবাড়ী বাজারে বিচিযুক্ত শিমের দাম কেজিতে ৪০ টাকা কমে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার তথ্য দিয়েছেন বিক্রেতা আবুল কাশেম।
এ বাজারে দেশি টমেটো ১০০ টাকায় বিক্রির তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘আগলা (আগের) শুক্কুরবার তো ১৫০-১৬০ টাকাও কেজি বেচছি টমেটো।’’
একই বাজারে আগের ছুটির দিনে শসা ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও তা ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে এদিন। ফুলকপি আগের দাম, ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি।
যাত্রাবাড়ী বাজারে মোটা লম্বা বেগুনের দাম ১২০ টাকা থেকে কমে ৮০ টাকা, আর বিচিছাড়া শিম ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১২০ টাকা কেজি।
যাত্রাবাড়ী ও শনি আখড়া বাজারে একই দাম, ১৬০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করতে দেখা যায়। ধনে পাতার দাম কমে প্রতি কেজি ১৪০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ২০০ টাকা কেজি।
শনি আখড়া বাজারে আমদানি করা গাজর ১৬০ টাকা থেমে কমে ১৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ২০ টাকা কমে ৬০ টাকা, করলা ও উস্তা ২০ টাকা কমে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম
যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের দীর্ঘ দিনের বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৭০ টাকা।
অন্যদিকে সোনালী জাতের মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ টাকায়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২৮০ টাকা। দেশি মোরগ ৫৫০-৬০০ টাকা দরে বিক্রির তথ্য দিলেন এই বিক্রেতা।
এই বাজারের মাংস বিক্রেতা মানিক গাজী বলেন, গরুর মাংস কেনা যাচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজি দরে। তবে হাড় ছাড়া নিলে ৮০০ টাকা কেজি।
বাজারে সবজির উত্তাপ কমতে শুরু করায় কমেছে ডিমের দামও। সপ্তাহের ব্যবধানে ডজন প্রতি ৬ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
শনি আখড়া বাজারে এক হালি ৪২ টাকায় বিক্রি করছেন দোকানি রাজিব হাসান। এক ডজনের দাম ১২৬ টাকা হলেও ১২৫ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।