সাগরে এবার কূপ খননে আগ্রহী এক্সনমবিল
“আমরা আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করব, সেটা হয়তো আগামী মাসেই হবে। সেক্ষেত্রে তারা যদি বিডিংয়ে অংশ নেয় তাহলে ওয়েলকাম,“ বলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
শেভরনের পর আরেক মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি এক্সনমবিল বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কূপ খননের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশে গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাতে নিজেদের আগ্রহের কথা আলোচনা করে গেছেন এক্সনমবিলের প্রতিনিধি দল। তবে তারা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
এর আগে মার্কিন কোম্পানিটি সাগরে গ্যাসের খোঁজে টুডি সার্ভের কাজ করতে চেয়েছিল। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ নিয়ে কোম্পানিটির কর্মকর্তাদের একাধিক দফায় আলোচনার খবর প্রকাশ হয়েছিল।
মঙ্গলবার কোম্পানিটির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গত বছর (২০২৩) সালে এক্সনমবিল বঙ্গোপসাগরে কয়েকটি ব্লক নিয়ে টুডি সার্ভে করে কাজ শুরু করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা এখন আর সার্ভের দিকে যাচ্ছি না। বরং সরাসরি বিডিং করে কূপ খননের ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়ার পথে হাঁটছে সরকার।“
সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ২০২৩ সালে মডেল পিএসসি চূড়ান্ত করেছে পেট্রোবাংলা। ওই বছর ২৬ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই মডেল পিএসসি (প্রডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্ট) অনুমোদন পায়। এর পর থেকে বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানি সাগরে অনুসন্ধান কাজ শুরু করতে যোগাযোগ শুরু করে বলে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে ওই সময় আর দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। এখন আগামী মার্চে এক দফায় দরপত্র আহ্বান করার কাজ চলছে বলে পেট্রোবাংলার একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এর মধ্যেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহী হয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে।
এরমধ্যে রোববার বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে প্রায় তিন দশক ধরে কর্মরত মার্কিন কোম্পানি শেভরন বঙ্গোপসাগরে কূপ খননের আগ্রহের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে জানিয়েছে।
সেদিন শেভরন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট এরিক এম ওয়াকার বলেন, “গত ২৮ বছর ধরে আমরা পেট্রোবাংলার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এখন আমরা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও চিন্তা ভাবনা করছি।
“এখানে আমাদের জনশক্তির ৯৭ শতাংশই বাংলাদেশি। তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা অফশোর ড্রিলিং নিয়েও ভাবছি, সিসমিক ডেটা সংগ্রহ করেছি।”
শেভরনের পর আরেক শীর্ষস্থানীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি এক্সনমবিলের একটি প্রতিনিধি দল সাগরে গ্যাস কূপ খননে তাদের প্রস্তাবের বিষয়ে আলোচনা করতে বাংলাদেশে আসে। এর আগে কোম্পানিটি সাগরে গ্যাস ও তেলের বিষয়ে জরিপ করতে আলোচনা শুরু করেছিল মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার সঙ্গে।
এক্সনমবিল এখন কূপ খননের বিষয়ে কী ভাবছে প্রশ্ন করা হলে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা আমাদের অবস্থানের কথা তাদের জানিয়েছি। আমরা আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করব, সেটা হয়তো আগামী মাসেই হবে। সেক্ষেত্রে তারা যদি বিডিংয়ে অংশ নেয় তাহলে ওয়েলকাম।“
