১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতের কাছে ‘অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক’ প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর দেশটিতে বিদ্যমান শুল্কসুবিধা অব্যাহত রাখার কথাও বলেছে ঢাকা।

ভারতের কাছে ‘অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক’ প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ

দিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজিটি) বৈঠক।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Oct 2026, 11:30 PM

Updated : 09 Oct 2026, 11:30 PM

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের বরফ গলানোর বৈঠকে ভারতের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে স্থলবন্দরভিত্তিক বিধিনিষেধ ও অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়ে জোর দিয়েছে ঢাকা।

পাশাপাশি বাংলাদেশি পাটপণ্য ও পিইটি ফিল্মের ওপর থেকে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও দেশটিতে বিদ্যমান শুল্কসুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

ভারতের নয়া দিল্লিতে বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজিটি) ১৬তম বৈঠকের শুক্রবার দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া দুই দিনের এ সভার আলোচনার বিষয় ছিল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা নিরসন, স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা।

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পক্ষ থেকেও আমদানি-রপ্তানিতে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করা ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিভিন্ন প্রস্তাব আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশীয় রপ্তানিকারকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনার জন্য তুলে ধরা হয়েছে।

ভারতীয় বাজারে পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা নিরসনের পাশাপাশি অন্যান্য বাণিজ্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা চলছে।

এলডিসি উত্তরণের পর ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের শুল্কসুবিধা কীভাবে অব্যাহত রাখা যায়, সেটিও আলোচনার একটি 'গুরুত্বপূর্ণ বিষয়' ছিল বলে তুলে ধরা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

সাফটা চুক্তির আওতায় বর্তমানে পাওয়া সুবিধা উত্তরণের পরও বহাল রাখার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছে বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে পণ্যের মান নির্ধারণে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) প্রয়োজনীয় সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাজারে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সুযোগ সম্প্রসারণও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারে ছিল।

ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছিল।

দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে সিইওস ফোরাম কার্যকর করার বিষয়ও তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।

বৈঠকে স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করতে ভারতের স্থল কাস্টমস স্টেশনগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রবেশপথ, পার্কিং ইয়ার্ড, গুদাম ও শেডের পাশাপাশি পণ্য পরীক্ষা এবং কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

সীমান্তবর্তী স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া গতিশীল করাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

অন্যদিকে ভারতের আলোচ্যসূচিতে ছিল তুলার সুতা ও অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থলবন্দরে বিদ্যমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়।

দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা নিরসন, আঞ্চলিক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আখাউড়া-আগরতলা সংযোগসহ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক রুটগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগের উন্নয়ন ও সীমান্ত হাটসংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেয়েছে।

ভৌগোলিক নৈকট্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে দুই দেশের। তবে এ সুযোগের সুফল পেতে বাজারে প্রবেশের বাধা দূর করার পাশাপাশি সীমান্তে পণ্য পরিবহন ও খালাসের সীমাবদ্ধতা নিরসন প্রয়োজন।

যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে অগ্রগতি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পথ সুগম হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ বৈঠকে অংশ নেয়।

জেডব্লিউজিটি সাধারণত বছরে একবার বসে। সর্বশেষ ১৫তম বৈঠক হয় ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর; ঢাকায়।

এর আগে ১৪তম বৈঠক হয় ২০২২ সালের ২ ও ৩ মার্চ; নয়া দিল্লিতে।

২০২৪ সালের অগাস্টে গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা আসে এবং এ নিয়মিত বৈঠক আর হয়নি।

এর মধ্যেই ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানি বন্ধ করে। তবে সমুদ্রপথে আমদানির সুযোগ খোলা রাখা হয়।

এর কয়েক সপ্তাহ পর ভারত স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও পিভিসিসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই বছরের জুনে পাট ও কিছু বস্ত্রজাত পণ্যেও নিষেধাজ্ঞা আসে।

আগের বৈঠকগুলোতে স্থলবন্দর ও ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টের অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, সীমান্ত হাট চালু, রেলপথে পণ্য পরিবহন, আঞ্চলিক সংযোগ এবং পণ্যের মান সমন্বয় ও পারস্পরিক স্বীকৃতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

বাংলাদেশ-ভারত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (সিইপিএ) প্রস্তুতি ও যৌথ সমীক্ষা, বাংলাদেশে নিত্যপণ্য সরবরাহ এবং পেট্রাপোল-বেনাপোল চেকপোস্ট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে ছিল।

দিল্লিতে জেডব্লিউজিটির বৈঠক: স্থলবাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা অপসারণে জোর

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বৈঠক, বুধবার দিল্লি যাচ্ছেন ১০ কর্মকর্তা