০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দিল্লিতে জেডব্লিউজিটির বৈঠক: স্থলবাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা অপসারণে জোর

ভারতের স্থলপথ ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে পণ্য রপ্তানির সুযোগের বিষয়টি বৈঠকে তুলেছে বাংলাদেশ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 11:42 PM

Updated : 08 Oct 2026, 11:42 PM

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের বাধা দূর করার আলোচনা শুরু করেছে ঢাকা ও দিল্লি।

ভারতের নয়া দিল্লিতে বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজিটি) ১৬তম বৈঠকের প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার আমদানি-রপ্তানির বাধা দূর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন কর্মকর্তা ও একজন কূটনীতিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য দিয়েছেন।

এ কূটনীতিক বলেন, “বাংলাদেশের তরফে মূলত বন্দর সম্পর্কিত বিধিনিষেধ অপসারণের ওপর জোর দিয়েছে।”

তিনি বলেন, আলোচনার অন্যান্য বিষয় ছিল পণ্য আমদানি-রপ্তানির চিহ্নিতকরণ এইচএস কোডের সামঞ্জস্যতা নিরূপণ, স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে বাণিজ্য সহজীকরণ, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ নীতিতে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল-সাফটার রুলস অব অরিজিন ইত্যাদি।

তার ভাষ্য, "ভারতের তরফেও সুতাসহ অন্যান্য পণ্যের ওপর থাকা বন্দর সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়।”

এ কূটনীতিক বলেন, এছাড়াও পণ্যের মানের বিষয়াবলী এবং রেলপথ ও অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহনের ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে দেশটির দিক থেকে।

উভয় পক্ষই নিয়মিতভাবে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে ‘সম্মত’ হওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা ও কূটনীতিক বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরেও ভারতের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, অশুল্ক বাধা দূর এবং ভারতের স্থলপথ ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে পণ্য রপ্তানির সুযোগের বিষয়টি বৈঠকে তুলেছে বাংলাদেশ।

অপরদিকে ভারতের তরফে সীমান্ত হাট চালু, দুই দেশের রেল যোগাযোগ আরও বাড়ানো, ভারতীয় পণ্য আমদানিতে উচ্চ শুল্ক প্রত্যাহার কথা বলা হয়েছে।

দুই দিনের এ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফটিএ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার।

দশ সদস্যের প্রতিনিধি দলে আরও আছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ, এনবিআর প্রতিনিধি হিসেবে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ শামীম আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব ফারহানা ইসলাম, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের যুগ্ম প্রধান মামুন-উর-রশিদ আসকারী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া-১) বাকী বিল্লাহ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মেরিনা সুলতানা ও বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক ফিরোজ আহমেদ।

জেডব্লিউজিটি সাধারণত বছরে একবার বসে। সর্বশেষ ১৫তম বৈঠক হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায়।

Image

দিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজিটি) বৈঠক।

এর আগে ১৪তম বৈঠক হয় ২০২২ সালের ২ ও ৩ মার্চ, নয়া দিল্লিতে।

২০২৪ সালের অগাস্টে গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা আসে এবং এ নিয়মিত বৈঠক আর হয়নি।

এর মধ্যেই ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানি বন্ধ করে। তবে সমুদ্রপথে আমদানির সুযোগ খোলা রাখা হয়।

এর কয়েক সপ্তাহ পর ভারত স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও পিভিসিসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই বছরের জুনে পাট ও কিছু বস্ত্রজাত পণ্যেও নিষেধাজ্ঞা আসে।

আগের বৈঠকগুলোতে স্থলবন্দর ও ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টের অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, সীমান্ত হাট চালু, রেলপথে পণ্য পরিবহন, আঞ্চলিক সংযোগ এবং পণ্যের মান সমন্বয় ও পারস্পরিক স্বীকৃতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

বাংলাদেশ-ভারত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (সিইপিএ) প্রস্তুতি ও যৌথ সমীক্ষা, বাংলাদেশে নিত্যপণ্য সরবরাহ এবং পেট্রাপোল-বেনাপোল চেকপোস্ট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে ছিল।

পুরানো খবর:

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বৈঠক, বুধবার দিল্লি যাচ্ছেন ১০ কর্মকর্তা