৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

থাইল্যান্ডকে আমদানি বাড়ানো, শুল্ক কমানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের

২০২৫ সালে দুদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১০ থেকে ১৫০ কোটি ডলার; যেখানে বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ডে পণ্য গেছে ১০ কোটি ডলারেরও কম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Oct 2026, 09:50 PM

Updated : 30 Oct 2026, 09:50 PM

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে থাইল্যান্ডকে বাংলাদেশ থেকে বেশি পরিমাণে ওষুধ ও পাটজাত পণ্য আমদানির পাশাপাশি শুল্ক কমানোর আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

শুক্রবার ব্যাংককে চতুর্থ ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পরিমাণে ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি এবং থাই বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা বাড়াতে শুল্ক কমানো।

সভায় পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল এবং থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব একসিরি পিনতারুচি থাই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পাল্লাটা থাইল্যান্ডের দিকে ভারি। ২০২৫ সালে দুদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১০ থেকে ১৫০ কোটি ডলার; যেখানে বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ডে পণ্য গেছে ১০ কোটি ডলারেরও কম।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ে প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করার এবং দুদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বিস্তৃত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে থাইল্যান্ড। একইসঙ্গে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা দ্রুত শুরু করারও অনুরোধ করেছে দেশটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম ও রানং বন্দরের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় উভয়পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ১৫ দিন থেকে চার দিনে নেমে আসতে পারে। লজিস্টিকস খরচ কমানোর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানো যেতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ফলমূল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণে থাইল্যান্ডের কারিগরি সহযোগিতা ও বিনিয়োগ এবং হালাল খাদ্য বাজারের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

থাইল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (টিকা) কর্মসূচির অধীনে হসপিটালিটি, নার্সিং, জার্মপ্লাজম, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের খাতে বাংলাদেশি পেশাদারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও বলেছে বাংলাদেশ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিজেদের ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ কর্মসূচির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ের ওপর জোর দিয়েছে থাইল্যান্ড।

চলমান জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে উভয়পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে কৃষি অবশিষ্টাংশ ও কৃষি-শিল্প বর্জ্যকে বিদ্যুতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার নিয়ে আলোচনায় আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আকাঙ্ক্ষার পূরণ এবং ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে’ (আরসিইপি) যোগদানের ক্ষেত্রে অব্যাহত সমর্থনের জন্য থাইল্যান্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রসারে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড। এক্ষেত্রে ক্রিকেট ও সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা বিনিময়ের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। আর থাইল্যান্ড প্রস্তাব দিয়েছে তায়কোয়ান্দো প্রশিক্ষণের।