Published : 07 Apr 2026, 09:39 PM
জেট ফুয়েল আমদানির শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) প্রত্যাহারসহ একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)।
একই সঙ্গে যুদ্ধ বা বিশেষ পরিস্থতিতে অস্বাভাবিক হারে তেলের মূল্য বাড়ানো হলেও শুল্কহার সমন্বয় করা দাবিও করেছে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর উদ্যোক্তাদের সংগঠনটি।
মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রাক বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব দেন এওএবির মহাসচিব মফিজুর রহমান।
মূসক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি আমদানি শুল্ক ও আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব দেন তিনি।
বর্তমানে জেট ফুয়েলের ওপর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ, ১৫ শতাংশ মূসক ও ২ শতাংশ আগাম কর দিতে হয়।
এছাড়া যুদ্ধ বা অন্য বিশেষ পরিস্থিতিতে তেলের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বাড়লে করের পরিমাণ নির্দিষ্ট রেখে করের হার আনুপাতিক হারে কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
উড়োজাহাজ, হেলিকপ্টারের যন্ত্রাংশ এবং ইঞ্জিনের ওপর আরোপিত আমদানি কর এবং অগ্রিম সাড়ে ৭ শতাংশ আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে এওএবি।
পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষনের জন্য ‘স্পেয়ার পার্টস’ আমদানিতে বন্ডেড ওয়ারহাউজ লাইসেন্সের সুবিধা চেয়েছে তারা।
এ খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় নিয়োজিত কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ ব্যয়ের ওপর মূসক ও কর প্রত্যাহারও চেয়েছে সংগঠনটি।
বর্তমানে আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশিক্ষণ ব্যয়ের ওপর ১০ শতাংশ ও বিদেশে প্রশিক্ষণের ওপর ২০ শতাংশ হারে আয়কর ও মূসক এবং সম্পূরক শুল্ক অনুযায়ী ১৫ শতাংশ হারে মূসক প্রযোজ্য।
বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণে যাত্রী প্রতি আরোপিত বিবিধ কর বাবদ ১ হাজার ১২৫ টাকা দিতে হয়। এটি ৭২৫ টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে এওএবি।
তারা একইসঙ্গে আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ১৬৩ সংশোধন বা বাতিল করে প্রকৃত করদায় অপেক্ষা অতিরিক্ত পরিশোধিত উৎসে কর ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে হেলিকপ্টার আমদানিতে শুল্ক ও মূসক আরোপের ফলে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশে এসে দাঁড়ায়। এটি আগের মতো ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে এওএবি।
চার্টাড বিমান বা হেলিকপ্টার ভাড়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রদানের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূসক ও ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কও অব্যাহতি চায় সংগঠনটি।
একইসঙ্গে চার্টাড বিমান ও হেলিকপ্টারের সার্ভিস বিলের ওপর ৫ শতাংশ উৎসে আয়করও অব্যাহতি চেয়েছে তারা।