Published : 09 Apr 2026, 09:44 PM
বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার আবারও খুলতে মালয়েশিয়ায় সম্মতি পাওয়ার কথা বলেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
একই সঙ্গে দেশটিতে কর্মী পাঠানোতে স্বচ্ছতা এবং ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হওয়ার কথা বলেছে মন্ত্রণালয়।
মালয়েশিয়া সফরকালে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতির বরাতে এসব কথা বলেছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রীর সফরকালে দেশটির সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে বলা হয়েছে, শ্রম অভিবাসন বিষয়ে বৈঠক শেষে দুই দেশ যৌথ প্রেস বিবৃতি দিয়েছে। এতে উভয় দেশ শ্রম অভিবাসনে তাদের দীর্ঘস্থায়ী এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।
একই সঙ্গে খাতভিত্তিক চাহিদার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে বলে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়।
পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীদের দৌরাত্ম ও অভিবাসন খরচ কমাতে কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করা এবং আটকে পড়া শ্রমিকদের নিয়োগ দ্রুত সহজতর করার ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
ওই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতো রমনন রামকৃষ্ণন।
২০২৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ার জনশক্তির বাজার বন্ধ বাংলাদেশের। ওই বছর মালয়েশিয়ার সরকার ঘোষণা করেছিল, আগে থেকে অনুমোদন পাওয়া বাংলাদেশের কর্মীদের ৩১ মে এর মধ্যে দেশটিতে যেতে হবে। এরপর কর্মী ভিসায় আর কেউ সেখানে ঢুকতে পারবেন না।
ওই তারিখের পর থেকে আর কোনো জনশক্তি যেতে পারেনি দেশটিতে। এরপর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দফায়-দফায় চেষ্টা করেও এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
বিএনপি সরকার গঠনের পর গুরুত্বপূর্ণ এই জনশক্তি বাজার আবার উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গত বুধবার মালয়েশিয়া যান প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বৃহস্পতিবার তারা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এসময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল অভিবাসন নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করে। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি দেয় উভয় দেশ।
এতে বলা হয়, বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে দেশটির সব উৎসে প্রযোজ্য একটি প্রযুক্তিচালিত, এআইভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এর লক্ষ্য- মধ্যস্থতাকারী কমানো, অভিবাসন খরচ কমানো এবং নিয়েগকর্তারা যেন নিয়োগের সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন তা নিশ্চিত করা।
এর ফলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘নিয়োগকর্তাই অর্থ প্রদান করবেন’ নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের জন্য অভিবাসন খরচ শূন্য হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় পক্ষ শ্রমিক নিয়োগে মানবপাচার সংক্রান্ত চলমান আইনি মামলা সম্পর্কিত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করেছে। মালয়েশিয়ার পক্ষ তাদের আন্তর্জাতিক সুনামকে প্রভাবিত করতে পারে, এমন যে কোনো ভিত্তিহীন বা বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ আইনের শাসন, যথাযথ প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা এবং সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।