Published : 01 May 2026, 10:37 PM
সপ্তাহ দুয়েক আগে জ্বালানি তেলের যে দাম বেড়েছে তার প্রভাব দেখা গেছে কাঁচাবাজারে। জ্বালানি সরবরাহ সংকটের সময়ে সবজির দর বেড়ে এখন সেখানেই স্থির আছে।
সবজির উর্ধ্বমুখী বাজারে ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ার মধ্যে এবার গরুর মাংসের দামও বাড়ল।
শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ২০ টাকা বেড়ে ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে রোজার সময়ে বেড়ে যাওয়া মুরগিও আগের সপ্তাহের দরে বিক্রি হচ্ছে রাজধানীর শনির আখাড়া, যাত্রাবাড়ী ও মহাখালী কাঁচাবাজারে।
কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির কারণে মাছের সরবরাহ না কমলেও দামে কোনো প্রভাব পড়েনি। আগের সপ্তাহের বাড়তি দরেই বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ মাছ।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরবরাহ বাড়লেও পরিবহন খরচ বাড়ায় সবজির দাম কমছে না বলে অজুহাত দিলেন শনি আখড়া বাজারের বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম।
প্রায় এক কিলোমিটার দূরে থাকা যাত্রাবাড়ী আড়ৎ থেকে পাইকারি দরে সবজি কেনেন তিনি।
আশরাফুলের দাবি, “গাড়ি ভাড়া তো বাড়িয়ে দিয়েছে ট্রাকওয়ালারা। তাই পাইকাররাও দাম বাড়িয়েছে।”
গেল ১৮ এপ্রিল এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম ১০ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে সরকার। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলার পর প্রায় দেড় মাস জ্বালানি সরবরাহে সংকট চলার মধ্যে সরকার চার ধরনের তেলের দাম বাড়ায়।
তখন ডিজেলের লিটারপ্রতি দাম ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকা করা হয়।
যদিও মে মাসের জন্য এ চার ধরনের তেলের খুচরা দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার।
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছিলেন, “আমরা খাদ্যদ্রব্য খাই, এটি জ্বালানি তেলে তৈরি না। এটি পরিবহনের সঙ্গে জড়িত। ম্যানুফেকচারিং ইন্ডাস্ট্রিতেও জ্বালানি খরচ হয় মোট উৎপাদন খরচের ৭ থেকে ৮ শতাংশ। তাই পণ্যমূল্য খুব বেশি বাড়বে না।”

পেঁপেও ১০০ টাকা কেজি
ভরা এই মৌসুমে আগের বছর ২০ টাকা দরেও সবজি পাওয়া গেছে। এবার সবচেয়ে সস্তা সবজি কাঁচা পেঁপেও বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে।
প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁপের দাম দুই সপ্তাহ আগে হঠাৎ করেই ৬০ টাকায় উঠে যায়। শুক্রবার এ সবজিটি শনির আখাড়ায় ১০০ টাকা বিক্রি হয়েছে, আর মহাখালী কাঁচাবাজারে তা ৮০ টাকায় মিলছে।
যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পেঁপের চালান কম আসতাছে। মানুষ তো কিনতাছে, তাই দামও বাড়ছে।”
এ বাজারে আগের সপ্তাহের মতো ঝিঙা ও ধুন্দল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে গোল বেগুনের দর ১৪০ টাকায় ঠেকেছে।
অন্যদিকে ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪৫ থেকে ৫০।
স্থানীয় জাতের ঢেঁড়সের দাম একটু বেশি তুলে ধরে যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, দেশি জাতেরটা ১০ টাকা বেশি থাকে।
মহাখালী কাঁচাবাজারে টমেটো প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা বিক্রির তথ্য দিয়ে বিক্রেতা মোহাম্মদ জুয়েল বলেন, করলা ১০০ টাকা কেজি।
আগের সপ্তাহে টমোটোর দাম একই থাকলেও প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে করলায়।
এ বাজারে আগের দরে পটল ৮০ টাকা কেজি, দেশি শসা ৮০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৭০ টাকা কেজি, আর বরবটি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
যাত্রাবাড়ীতে যে লাউ ৬০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রিতা দোলন সরকার মহাখালীতে তা ৭০ টাকায় বিক্রি করছিলেন মোহাম্মদ জুয়েল।
এ দুই বাজারেই কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৭০ টাকা কেজি।
মহাখালী বাজারে আগের সপ্তাহের মতো চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা ও বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে।
যাত্রাবাড়ীতে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি।

ফের বাড়ল গরুর মাংসের দাম
রোজার শুরু থেকে প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস গরুর মাংসের দাম বেড়ে ৮০০ টাকা হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আরেক দফা বাড়ল এ মাংসের দাম।
শুক্রবার শনির আখাড়া ও মহাখালী কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৮২০ টাকা।
শনির আখাড়ার বিক্রেতা জাবেদুল ইসলাম বলেন, “আমরা দিনে ৩-৪টা গরু জবাই দিই। একটা বিক্রি হলে আরেকটা। কম লাভ করি। এখন একটা গরু ৪-৫ হাজার টাকা বেশি দিয়ে আনতে হচ্ছে, তাই আজকে দাম একটু বেশি।”
মহাখালী কাঁচাবাজারেও গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮২০ টাকা বিক্রি করছিলেন সিদ্দিক ইসলাম।
অন্যদিকে ছাগলের মাংস আগের দাম, ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি ও খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এ বাজারে।
যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে ব্রয়লার মুরেগি ১০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন রাজিব হোসেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সোনালী জাতের কক মুরগির দাম ১০ টাকা কমছে। এখন ৩৫০ টাকায় বিক্রি করি।”
আগের সপ্তাহে প্রতি ডজনে ১০-১৫ টাকা বেড়ে যায় ডিমের দাম। শুক্রবারও শনির আখাড়া ও মহাখালী কাঁচাবাজারে বিক্রি হয় সেই বাড়তি দরে অর্থাৎ ১৩০ টাকায় এক ডজন খামারের ডিম বিক্রি হয়েছে।

মাছের দামও বাড়তি
যাত্রাবাড়ীতে ছোট রুই বা নলা মাছ ২০০ টাকা কেজি হলেও সেই মাছ মহাখালী বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে যা যাত্রাবাড়ী ও মহাখালীতে ছিল ২৫০ টাকা কেজি।
প্রতি কেজি শিং মাছ ৩৫০ টাকা বিক্রির কথা বলেছেন মহাখালী কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মন্টু দাস। আর বড় আকারের শিং আগের দর ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে আগের দর ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয় কই মাছ।
মন্টু দাস বলেন, তিনি দুই কেজি ওজনের রুই মাছ বিক্রি করছেন ৩২০ টাকা কেজি দরে।
আগের সপ্তাহে এই ওজনের রুই মাছের দাম ছিল ৩৫০ টাকা কেজি। এর চেয়ে বেশি ওজন হলে ৪৫০ টাকা কেজি।

এ বাজারে আগের সপ্তাহের মতো তেলাপিয়া ১২০ টাকা, বাটা মাছ ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, সরপুটি ২৫০ টাকা, সিলভার কার্প ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাঙ্গাস মাছও আগের সপ্তাহের মতো ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আর ১০ টাকা কমে তেলাপিয়া ১২০ টাকা কেজি, বড় আকারের তেলাপিয়া আগের দর, ২০০-২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।
চাষের পাবদা ৩০০ টাকা ও দেশি পাবদা ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে মহাখালী বাজারে। আগের সপ্তাহে চাষের পাবদা ৫০ টাকা কমে বিক্রি হলেও দেশি পাবদার দামে কোনো হেরফের হয়নি।
এ কাঁচাবাজারে চাষের টেংরা প্রতি কেজি ৫০০ টাকা বিক্রি করছিলেন মন্টু দাস। আগের সপ্তাহে তার চেয়ে ৫০ টাকা কম ছিল।