এমপি লিটনকে আগেও হত্যার চেষ্টা হয়েছিল: র‌্যাব

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি চন্দন কুমার রায়কে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব বলছে, ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসেও একবার এমপি লিটনকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Sept 2022, 10:59 AM
Updated : 12 Sept 2022, 10:59 AM

বছর ছয়েক আগে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যার আগেও একবার তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল খুনিরা; তবে সেই চেষ্টা ভেস্তে গিয়েছিল বলে তথ্য দিল র‌্যাব।

এ ঘটনায় পলাতক আসামি চন্দন কুমার রায়কে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব বলছে, ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকা থেকে গাইবান্ধা যাওয়ার পথে লিটনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তবে তিনি গাবতলী পৌঁছে ফিরে গেলে সেই পরিকল্পনায় খুনিরা সফল হতে পারেনি।

পরে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আসামিরা লিটনকে তার নিজের বাড়িতেই হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন ৩১ ডিসেম্বর লিটনের চাচাতো ভাই সুবল ও চন্দন বাড়িতে অবস্থান করে লিটনের গতিবিধির খবর দিয়েছিলেন।

বিকালে বাড়িতে লিটনকে একা পেয়ে শাহীন, রানা ও মেহেদী মোটরসাইকেল দিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে গুলি করে ‘মিশন’ সম্পন্ন করে বলে র‌্যাবের ভাষ্য।

সোমবার ঢাকার কারওয়ানবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, “বিভিন্ন ঘটনায় পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে চন্দনের সহযোগিতায় লিটনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি আব্দুল কাদের খান।”

ওই ঘটনার তিন বছর পর ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর সাত জনের ফাঁসির রায় দেয় আদালত। তবে তাদের মধ্যে চন্দন কুমার রায় ছিলেন পলাতক, যাকে রোববার রাত ৯টার দিকে সাতক্ষীরার ভোমরা এলাকায় গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, “পূর্বের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্যের লড়াই থেকে লিটনকে হত্যা করা হয়।”

র‌্যাব জানায়, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির আবদুল কাদের খান। সে সময় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছিলেন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন।

পরে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাদেরের ওই আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে জয় পান লিটন। সে সময় কাদেরের ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক বিরোধ থেকেই লিটনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে চন্দন র‌্যাবকে জানিয়েছেন।

চন্দন সুন্দরগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে এমপি লিটন ২০১৬ সালের প্রথমদিকে তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, একাধিক মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে লিটনের সহযোগিতা না পেয়ে তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন চন্দন।

“২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে লিটনের সমর্থিত লোকজনের সঙ্গে চন্দনের মারামারি হলে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি। লিটনের প্ররোচনায় ওই সময় একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে চন্দন ১৯ দিন কারাভোগ করেন।”

চন্দনের নামে ইন্টারপোলের রেড নোটিস ছিল জানিয়ে মঈন বলেন, “সাবেক এমপি কাদেরের ব্যক্তিগত সহকারী শামসুজ্জোহার সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠেছিল চন্দনের। পরে চন্দন ও কাদের খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে লিটনকে হত্যা করা হয়।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চন্দনের ভগ্নিপতি সুবল রায় লিটনের বাড়ির দারোয়ান হিসেবে কাজ করার সুবাদে লিটনের যাওয়া-আসার বিষয়ে তথ্য জানা সহজ ছিল চন্দনের জন্য। লিটনের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে আবদুল কাদের খান ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদেরকে তথ্য দিতেন চন্দন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে তাদের সহযোগী মেহেদী, শাহীন, রানা, শামসুজ্জোহা ও ড্রাইভার হান্নান অস্ত্র চালানো ও হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত পলায়েনের প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন।

২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের রায়ে ঘোষণা হলে আবদুল কাদের খান ও চন্দনসহ সাত আসমির সবাইকে ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত।

অন্যরা হলেন- কাদেরের একান্ত সহকারী মো. শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক আবদুল হান্নান, গৃহকর্মী মেহেদি হাসান, দূর সম্পর্কের ভাগ্নে ও বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক শাহীন মিয়া, সাবেক পোশাকশ্রমিক আনোয়ারুল ইসলাম রানা।

মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি কসাই সুবল চন্দ্র রায় কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক