শিশু শ্রম নিরসন প্রকল্পে এনজিওর কাজ তদন্তে কমিটি

শিশু শ্রম নিরসনের প্রকল্পে ১১২টি এনজিও কাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 July 2022, 12:08 PM
Updated : 26 July 2022, 12:08 PM

ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম নিরসন প্রকল্পে যেসব বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) কাজ করছে, তাদের কার্যক্রম তদন্তে নামছে সংসদীয় কমিটি।

এজন্য মঙ্গলবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়।

দুই সদস্যের এ উপ-কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. আনোয়ার হোসেনকে। আর সদস্য হিসেবে রয়েছেন শাজাহান খান। দুই মাসের মধ্যে উপ-কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে হবে। গত ২৫ এপ্রিল কমিটির বৈঠকে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিই আবার পুনর্গঠন করা হলো।

২০২৫ সালের মধ্যে শিশু শ্রম নিরসন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর তিনটি পর্যায় শেষ হয়েছে। বর্তমানে চতুর্থ পর্যায়ে চলছে। সরকারের এডিপি অনুদানে পরিচালিত এই প্রকল্পে ১১২টি এনজিও কাজ করছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে শিশুদের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শিশু প্রতি ১৬ হাজার টাকা করে সার্ভিস চার্জ পেয়ে থাকে এনজিওগুলো।

এপ্রিল মাসে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রকল্পের অধীনে শিশু বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কমিটির সভাপতি মো. মুজিবুল হক চুন্নু ওই বৈঠকে বলেন, এনজিওগুলো নিজেরা শিশুদের বাছাই করা সঠিক নয়। তারা যাদের নিয়ে কাজ করবে, তাদের যদি নিজেরা বাছাই করে- তবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য শাজাহান খান জানতে চান, ১৬ হাজার টাকা সার্ভিসের চার্জের বিপরীতে এনজিওগুলো কী কী সেবা দিচ্ছে, কোন সেবার বিপরীতে কত টাকা ধার্য করা হয়েছে। তবে ওই দিন সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

কমিটির সভাপতি মুজিবুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই প্রকল্পের এনজিওদের নিয়ে অভিজ্ঞতা ভালো নয়। সেজন্য পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাব-কমিটি করা হয়েছে।”

এই প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “কমিটি তদন্ত করে সবটা দেখবে। যদি অনিয়ম হয়, সেটাতো উঠে আসবেই।”

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো তহয়, ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাপ্ত না হওয়ার বিষয়ে এবং এনজিওগুলোর প্রত্যেক শিশুর বিপরীতে ১৬ হাজার টাকা গ্রহণের বিস্তারিত প্রতিবেদন পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপন জন্য সুপারিশ করা হয়।

চট্টগ্রামের বিএম কন্টেইনার টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন এবং এর আগে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে গঠিত কমিটিগুলোর প্রতিবেদন আগামী বৈঠকে উপস্থাপন করার জন্য সুপারিশ করা হয়।

মুজিবুল হকের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য শাজাহান খান, মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, শামসুন নাহার ও আনোয়ার হোসেন (হেলাল) অংশ নেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক