Published : 24 Jan 2024, 01:28 AM
ছবি:
ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রাইভেট কার লক্ষ্য করে গুলি ও হামলার ঘটনার পেছনে তালিকাভুক্ত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সানজিদুল ইসলাম ইমনের হাত রয়েছে বলে আহত আরেক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ মামুন পুলিশের কাছে দাবি করেছে। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এ কথা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা প্রধান। তিনি বলেন, তেজগাঁও বিজি প্রেস এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গুলিতে দুই পথচারীও আহত হয়েছেন। এছাড়া ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ মামুনকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার আসামি মামুন মগবাজারের পিয়াসা বার থেকে ফেরার পথে তার মাইক্রোবাসে হামলা হয়।
হারুন বলেন, চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় ২০ বছরের অধিক সময় জেল খেটে তিন মাস আগে জামিনে বের হন মামুন। মামুন পুলিশকে বলেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজিরা দিতে গেলে ইমন তাকে ‘দেখে নেওয়ার' হুমকি দেয়।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ১২ তারিখে হুমকি দেয় আর আজ ১৯ তারিখ। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা পুলিশ তদন্ত করছে। পুলিশ অনেকের নাম জানতে পেরেছে। কারাগারে থাকা ইমনের নাম বলেছে মামুন। তবে ইমনের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০০৮ সালের ৭ মার্চ ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইমনকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয় কলকাতা পুলিশ। সেই থেকে কারাগারেই আছেন পুলিশের তালিকার এ সন্ত্রাসী।
সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বিজি প্রেসের কাছে সড়কে এলোপাতাড়ি এ গুলিতে ভুবন চন্দ্র শীল নামে এক আইনজীবী গুরুতর আহত হয়ে বেসরকারি এক হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তার মাথায় গুলি লাগে। হামলায় মো. আরিফুল নামে আরেক পথচারী আহত হন। এছাড়া দুবৃত্তরা হামলার লক্ষ্যে থাকা মামুনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছে।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মাযহারুল ইসলাম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মামুন তার দুই সহযোগী খোকন ও শেখ মিঠুসহ প্রাইভেট কারে রাত পৌনে ১০টার দিকে বিজি প্রেসের কাছে পৌঁছলে চারটি মোটর সাইকেলে আসা ৭-৮ জন সন্ত্রাসী তাদের গাড়ি আটকে হামলা চালায়, তারা গুলিও করে।
“খোকন এবং মিঠু পালিয়ে আত্মরক্ষা করলেও তারা মামুনকে কুপিয়ে জখম করে। এসময় তাদের ছোড়া গুলি আইনজীবী ভূবন চন্দ্র পালের মাথায় লাগে। আরেকজন পথচারি আরিফুর সামান্য আহত হন।”
আহত তিনজনকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় জানিয়ে ওসি বলেন, “ভূবন চন্দ্র পাল লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।”
ঘটনার সময় ভূবন চন্দ্র পাল একটি রাইড শেয়ারিং মোটর সাইকেলে ছিলেন। মোটর সাইকেলের চালকসহ কয়েকজন মিলে তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান।
মোটরসাইকেলের চালক শামীম জানান, হঠাৎ করে একটি গুলির শব্দ হয়। এসময় পেছনে বসা ভূবন তার পিঠে ঢলে পড়েন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে প্রথমে শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল এবং পরে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পূর্বশত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে ওসি মাযহারুল বলেন, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)