চড়-থাপ্পড় মারার ভিডিও ফেইসবুকে, দুই জনই কারাগারে
ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এএসআই আবদুল হাইকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে, বলেন ধানমন্ডি থানার ওসি।
সড়কের পাশে দুই হাতে মুখ ঢেকে বসে থাকা এক ব্যক্তিকে চড়-থাপ্পড় মারা হচ্ছে, এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
সেই ভিডিওয়ের সূত্র ধরে মারধরের শিকার ও মারধর করা দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের পর আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়ে বলে তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে ঘটনাস্থলে থাকা ধানমন্ডি থানার এএসআই আবদুল হাইকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রত্যাহার করার তথ্য দিয়েছেন ধানমন্ডি থানার ওসি মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব।
সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির সাত মসজিদ সড়কে বেসরকারি বাংলাদেশ আই হাসপাতালের কাছে এক ব্যক্তিকে চড়-থাপ্পড় মারা এবং কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি রাগে-ক্ষোভে বসে থাকা ব্যক্তিকে চড় থাপ্পড় মারছেন। এসময় মারধরের শিকার ব্যক্তির উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছিস, তোর মা বোন নেই।”
যে তরুণীর ‘গায়ে হাত দেওয়ার’ অভিযোগ আসে, তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ওই ব্যক্তি তার ‘স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়েছেন’। পুলিশকে বলা হলেও তারা তাকে গ্রেপ্তারে অনীহা দেখায়। পরে তিনি ফোন করে তার আত্মীয় খালিদ হাসানকে ডেকে আনেন।
ওসি ইমদাদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে এবং চড়-থাপ্পড় মারা ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, খালিদ হাসান নামের ৩৫ বছর বয়সি ওই ব্যক্তিকে বুধবার গ্রেপ্তার করে রমনা জোনের বিশেষ মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠায়।
আর ঘটনার পরই মারধরের শিকার ৪৮ বছর বয়সি আবদুল্লাহ আল মাসুদকে ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে একই আদালতে পাঠানো হলে একমাসের কারাদণ্ডাদেশ দেয় আদালত।
ওসি ইমদাদুল ইসলাম বলেন, “সোমবার দুপুরের পর ৯৯৯ এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মাসুদকে গ্রেপ্তার করি।”
এরপর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে মঙ্গলবার বিশেষ আদালতে পাঠালে বিচারক তাকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন, যোগ করেন তিনি।
ওসি বলেন, খালিদ হাসান একজন গ্রাফিকস ডিজাইনার। তার বাসা মিরপুরে। আর মাসুদের বাসা মোহাম্মদপুরে। তিনি কোনো কিছু করেন না।
ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসাইন বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা মাসুদকে গ্রেপ্তার করি। পরের দিন তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হয়। তার কোনো পেশা নেই। তবে তিনি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ বলে জেনেছি।”
