বাংলা একাডেমির ফেলোশিপ ও পুরস্কার পেলেন ১৪ গুণী

বিভিন্ন গুণীজনের নামে একাডেমি পরিচালিত পুরস্কার দেওয়া হয় সাতজনকে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Nov 2023, 04:51 PM
Updated : 25 Nov 2023, 04:51 PM

বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সাত ব্যক্তিকে সম্মাননা জানিয়ে ফেলোশিপ এবং সাত ব্যক্তিকে কবিতা, নাটক, সাহিত্য, প্রবন্ধ ও বিজ্ঞান পুরস্কার দিয়েছে বাংলা একাডেমি। 

শনিবার একাডেমি প্রাঙ্গণে বার্ষিক সাধারণ সভায় তাদের পুরস্কার দেওয়া হয়। 

এবার বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ ২০২৩ পেয়েছেন- মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু (সাংবাদিকতা), এ কে শেরাম (আদিবাসী গবেষণা), মো. আলম দেওয়ান (ফোকলোর), তানভীর মোকাম্মেল (চলচ্চিত্র), আক্কু চৌধুরী (মুক্তিযুদ্ধ), ফালগুনী হামিদ (সংস্কৃতি) ও ডা. হালিদা হানুম আখতার (চিকিৎসাবিজ্ঞান)। 

বাংলা একাডেমি পরিচালিত ‘মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার’-২০২৩ পেয়েছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, ‘অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ নাট্যজন পুরস্কার’-২০২৩ পেয়েছেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, ‘আবু রুশ্দ সাহিত্য পুরস্কার-২০২৩’ পেয়েছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ, ‘মেহের কবীর বিজ্ঞানসাহিত্য পুরস্কার’-২০২৩ পেয়েছেন ডা. এবিএম আবদুল্লাহ, ‘সাহিত্যিক মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার’-২০২৩ পেয়েছেন ড. অনুপম সেন, ‘সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার’-২০২৩ পেয়েছেন কবি ওমর কায়সার এবং ‘হালীমা-শরফুদ্দীন বিজ্ঞান পুরস্কার-২০২৩’ পেয়েছেন ‘বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট: বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর অবদান’ গ্রন্থ রচনার জন্য আবদুল গাফফার। 

ফেলোশিপ ও পুরস্কার পাওয়া গুণীজনদের হাতে পুরস্কারের অর্থমূল্য, সম্মাননাপত্র, সম্মাননা স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেন একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। 

কবি নির্মলেন্দু গুণের পক্ষে তার কন্যা মৃত্তিকা গুণ এবং আক্কু চৌধুরীর পক্ষে রামেন্দু মজুমদার পুরস্কার ফেলোশিপ গ্রহণ করেন। 

পুরস্কার অনুষ্ঠানের আগে বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪৬তম বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক নূরুল হুদা ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এবং একাডেমির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মোঃ হাসান কবীর ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেট অবহিত করেন।  

মহাপরিচালক সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং উত্থাপিত প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য প্রদান করেন।  

এদিন সাধারণ সভা একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে শুরু হয়। তিনি অসুস্থ বোধ করায় পরে পর্যায়ক্রমে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির ফেলো ড. নূহ-উল-আলম লেনিন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার। সভার কার্যক্রম সঞ্চালনা করেন একাডেমির পরিচালক ডা. কে এম মুজাহিদুল ইসলাম।  

বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে মহাপরিচালক সবার মতামত ও পরামর্শকে ভিত্তি করে আগামী দিনের বাংলা একাডেমির রূপরেখা প্রণয়ন করার কথা বলেন। 

সভাপতি বলেন, বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাঙালি জাতিসত্তাকে ধারণ করে বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করে চলেছে। সাধারণ পরিষদের সভায় সারাদেশ থেকে আগত ফেলো, জীবনসদস্য এবং সাধারণ সদস্যদের মতামত ধারণ করে একাডেমি তার ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে।