ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে মাস্টার-ভিসা কার্ড ‘জালিয়াতি’, গ্রেপ্তার ৪

“তারা বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কার্ড ডিভিশনের কর্মকর্তা সেজে সুকৌশলে কথা বলতেন,” বলেন গুলশান বিভাগের (গোয়েন্দা) উপ-কমিশনার।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Sept 2022, 05:49 PM
Updated : 17 Sept 2022, 05:49 PM

ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে মাস্টার ও ভিসা কার্ডধারীদের অ্যাকাউন্টের তথ্য নিয়ে ‘বিপুল পরিমাণ’ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

ঢাকার বিভিন্ন এলাকাসহ সাভার ও ফরিদপুরে শুক্র ও শনিবার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- সোহেল মীর (২৯), তারা মিয়া (৪২), নাজমুল হোসেন (২৮) ও তার মা পারুলী বেগম (৪৬)।

ঢাকা মহানগর গুলশান বিভাগের (গোয়েন্দা) উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।”

ভিসা এবং মাস্টারকার্ড কার্ডের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট, কেনাকাটা থেকে শুরু করে মোবাইল রিচার্জসহ বিভিন্ন কাজ করা যায়। এই কার্ড ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাকাউন্টেও টাকা লোড করা যায়। 

গোয়েন্দা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, “এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে এ সকল কার্ড ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল এই চক্রটি।”

তারা কিভাবে প্রতারণা করছিল সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তারা বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কার্ড ডিভিশনের কর্মকর্তা সেজে সুকৌশলে কথা বলতেন।

“গ্রাহকের কার্ডের ১৬ ডিজিটের নম্বর, কার্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ, কার্ডের বিপরীত পাশে লেখা ৩ ডিজিটের সিকিউরিটি নম্বরটি জেনে নিত।

“পরে গ্রাহককে বোকা বানিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে ওটিপি কোড তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত।” 

ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য হালনাগাদ করা হয় নাই, কার্ডের পাসওয়ার্ড চার ডিজিটের পরিবর্তে ছয় ডিজিট করতে হবে, ই-মেইলে পাঠানো মেসেজ আপডেট করা হয়- এসব বলে কথা বলা শুরু করতেন চক্রের সদস্যরা।

“এসব আপডেট না করলে কার্ডের সেবা বন্ধ হয়ে যাবে বলে গ্রাহকদের আতঙ্কে ফেলা হত,” বলেন উপ-কমিশনার।

চক্রে একজন নারী সদস্য রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই চক্রের মধ্যে শারফিন নামে এক মহিলা আছে, যে বিভিন্ন ব্যাক্তির ফোন নম্বর সংগ্রহ করে থাকে এবং তা চক্রের সদস্যদের দিয়ে থাকে।এই মহিলাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

এ ধরনের প্রতারকদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “কার্ড নম্বর,  নিরাপত্তা পিন নম্বর, ওটিপি কোড নম্বর একান্তই ব্যক্তিগত। এটা কেউ চাইতে পারেন না।”

এসব তথ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আদান-প্রদান না করার পরামর্শ দেন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মশিউর।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক