দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন: ভোটকেন্দ্র ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা চূড়ান্তের পথে ইসি

ভোটের অন্তত ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকার গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Nov 2023, 02:55 AM
Updated : 29 Nov 2023, 02:55 AM

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র এবং কয়েক লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল চূড়ান্তের কাজ চলছে।

তফসিল ঘোষণার পরই কেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা এবং সম্ভাব্য প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারের তালিকা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

৩০০ সংসদীয় আসনের ৬৬ রিটার্নিং অফিসারের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছেন উপসচিব আতিয়ার রহমান।

ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ জানিয়েছেন, ভোটের অন্তত ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকার গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সেটি মাথায় রেখে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা পাঠাতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।

প্যানেল থেকে ভোটের আগে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এবার প্রায় ১২ কোটি ভোটারের নির্বাচনে ৪২ হাজারেও বেশি কেন্দ্রে ভোটকক্ষ থাকছে ১ লাখ ৬২ হাজারেরও বেশি। এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রয়োজন হতে পারে সাত লক্ষাধিক; প্যানেল প্রস্তুতের সময় অতিরিক্ত সংখ্যক কর্মকর্তা রাখা হয়।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে গত ১ নভেম্বর থেকে। এর দুই সপ্তাহ পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার গত ১৫ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৭ জানুয়ারি নির্বাচন। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর; বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর।

রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি তারিখ ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর।

  • প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার পর যদি পরিলক্ষিত হয় যে, সরকারি গেজেটে প্রকাশিত কোনো ভোটকেন্দ্র কোনো প্রার্থীর মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে- তাহলে নির্বাচন কমিশন যে কোনো সময়ে তা পরিবর্তন করতে পারবে। ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশের পরেও বিষয়টি পরিলক্ষিত হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করতে হবে। 

  • প্যানেলভুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে রিটার্নিং অফিসাররা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগের কার্যক্রম চূড়ান্ত করবেন। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস/প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/কর্মচারীর মধ্য থেকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে।

  • প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার নিয়োগের সময় এসব কর্মকর্তার কর্মক্ষমতা, দক্ষতা, সততা, সাহস এবং নিরপেক্ষতার দিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।

  • নারী ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের জন্য যথাসম্ভব নারী সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং নারী পোলিং অফিসার নিয়োগ করতে হবে।

  • ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের জন্য যতো কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকের প্রয়োজন হবে, তার চেয়ে শতকরা ১০ শতাংশ বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষককে প্যানেলভুক্ত করতে হবে। 

তফসিল ঘোষণার সময় সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সব কর্মকর্তাদেরও আইন ও বিধি মেনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।

সিইসি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভোটকেন্দ্রগুলোর পারিপার্শ্বিক শৃঙ্খলাসহ প্রার্থী, ভোটার, নির্বাচনি কর্মকর্তাসহ সর্বসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

“জাল ভোট, ভোট কারচুপি, ব্যালট ছিনতাই, অর্থের লেনদেন ও পেশিশক্তির ব্যবহার আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে; জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে কোনো মূল্যে সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করতে হবে।”

আরও পড়ুন:

Also Read: নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসুন, ভোট কারচুপি প্রতিহত করুন: সিইসি

Also Read: মঙ্গলবার থেকেই ভোটের মাঠে নামছেন হাকিমরা