তৃণমূলে আইসিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও যাচাইয়ের পরামর্শ

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বিশেষ সহকারী সেলিমা খাতুন বলেন, কোথাও ল্যাব বা ডিজিটাল সেন্টার করে দেওয়ার আগে এগুলো ব্যবহারের সক্ষমতাও দেখা দরকার।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Sept 2022, 04:06 PM
Updated : 13 Sept 2022, 04:06 PM

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই-বাছাইয়ের পরামর্শ এসেছে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে।

মঙ্গলবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরে ‘স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি) প্রকল্প’ শীর্ষক সেমিনারে এ পরামর্শ আসে।

সেমিনারে অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বিশেষ সহকারী সেলিমা খাতুন বলেন, কোথাও ল্যাব বা ডিজিটাল সেন্টার করে দেওয়ার আগে এগুলো ব্যবহারের কতোটা সক্ষমতা আছে দেখা দরকার।

“কী যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে, কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে- তা পরবর্তী সময়ে মনিটর করা দরকার। মনিটর না করলে টেকইস হবে না। আমরা দিয়েই খালাস। এগুলো কিন্তু মেইনটেইন করতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পরিকল্পনা কমিশনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক সেলিমা খাতুন বলেন, “এসব ব্যবস্থাপনার জন্য যোগ্য জনশক্তি তৈরি করা এবং প্রতিশ্রুতিশীল লোকবলকে ধরে রাখতে হবে।

“শুধু ৫০০-১০০০ কম্পিউটার দিয়ে দিলাম, তা না। এগুলোর প্রয়োজন আছে কি না সেটার সম্ভাব্যতা দেখতে হবে।”

প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান, শেখ রাসেল ডিজিটাল ও বিশেষায়িত ল্যাব, ১০টি ডিজিটাল ভিলেজ তৈরিসহ বিভিন্ন খাতে ইডিসি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর।

সেলিমা খাতুনের বক্তব্য ধরে আইসিটি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এ এন জিয়াউল আলম বলেন, আইসিটি খাতে নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রমে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

“সার্বক্ষণিক মনিটরিং পদ্ধতি আমাদের বিভিন্ন প্রকল্পে রয়েছে। ডিজিটাল ল্যাবগুলোর ক্ষেত্রে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে কোন ল্যাবে কতজন ব্যবহার করছে, কতক্ষণ ব্যবহার করছে- এ ধরনের বিভিন্ন তথ্য আমরা পাচ্ছি।”

ইডিসি প্রকল্পের অধীনে এক লাখের বেশি ইন্টারনেট সংযোগ, ১০ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব, ৫৭টি বিশেষায়িত ল্যাব, ৫৫৫টি ‘জয় ডি-সেট সেন্টার’, সিআরভিএসের জন্য কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার, সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম, ১৭ হাজারের বেশি সার্ভিস ডেলিভারি ডিভাইস ও সাড়ে পাঁচ হাজার এনরোলমেন্ট ডিভাইস প্রদান এবং পূর্বাচলে ২১ তলা বিশিষ্ট ডিও আইসিটি টাওয়ার নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আইসিটি সচিব বলেন, “ডিজিটাল ল্যাবগুলো থেকে আমরা অনেক উপকার পাচ্ছি। মজার বিষয় হচ্ছে, কওমী মাদ্রাসাগুলোও এখন এটা চাচ্ছে আর নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানগুলো এটার জন্য হাহাকার করছে।”

সেমিনারে অন্যদের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোস্তফা কামাল, ইডিসি প্রকল্প পরিচালক খন্দকার আজিজুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক