ডিএনসিসির আপত্তিতে বন্ধ হল সওজের ভবন নির্মাণের কাজ

প্রয়োজনে আদালতে রিট আবেদন করার কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 August 2022, 07:02 PM
Updated : 3 August 2022, 07:02 PM

ঢাকার বনানীতে বিমানবন্দর সড়কের পাশেই ‘বহুতল ভবন’ করতে চেয়েছিল

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর যা উত্তর সিটি করপোরেশনের আপত্তির পর আটকে গেছে।

ব্যস্ততম এ সড়কে যানজট কমাতে আগামিতে প্রশস্ত করার ‘প্রয়োজন হতে পারে’ বলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর ভবন নির্মাণ প্রস্তুতিকালে আপত্তি জানিয়ে চিঠি দেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

এরপর ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ রেখেছে বলে বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন সওজের প্রধান প্রকৌশলী একেএম মনির হোসেন পাঠান।

তিনি জানান, সেখানে কিছু ভবন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ডিএনসিসির আপত্তির পর আপাতত সেই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

“আমাদের কর্মীদের জন্য কিছু টিনেশেড ভবন করা হচ্ছিল। কিন্তু ডিএনসিসি থেকে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি এসেছে। এ কারণে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কাজ আপাতত বন্ধ রেখেছি,” যোগ করেন তিনি।

তবে সেখানে কোনো ‘বহুতল ভবন’ নির্মাণ করা হচ্ছে না বলে দাবি তার।

গত মঙ্গলবার ডিএনসিসি মহাখালী থেকে বনানী রেলক্রসিং পর্যন্ত সড়কের পাশের খালি জায়গায় নতুন করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করতে অনুরোধ জানিয়ে চিঠিটি পাঠিয়েছিল।

উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বনানীর এই অংশে সড়কের পাশে একটা বড় সবুজবেষ্টনী ছিল। এটা আস্তে আস্তে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।

“এই অংশটা নগরের ফরেস্ট। তা ধ্বংস করে একের পর এক বিল্ডিং উঠবে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এরইমধ্যে গড়ে ওঠা বিআরটিএ ভবন এবং সেতু ভবন আমাদের অনেক ক্ষতি করে দিয়েছে। গাছগুলো ছিল তা কেটে ফেলা হয়েছে। জায়গা তাদের, তাই বলে তারা গাছগুলো কেটে ফেললো। আমি প্রয়োজনে কোর্টে রিট করব।”

বুধবার বিমানবন্দর সড়কের বনানী অংশে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ থেকে ২৭ নম্বর সড়ক পর্যন্ত খালি জায়গায় টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

সেখানে কর্মরত কর্মীরা জানিয়েছেন, সেখানে সওজের কর্মকর্তাদের জন্য কয়েকটি ‘বহুতল ভবন’ নির্মাণ করা হবে। পাইলিংয়ের কাজের জন্য বেষ্টনী দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্টের অধীনে ১৯৫৮ থেকে ১৯৫৯ সালের দিকে তৎকালীন সিঅ্যান্ডবির মাধ্যমে মহাখালী কাঁচাবাজারের সামনে থেকে মহাখালী আমতলী থেকে বনানী রেলক্রসিং পর্যন্ত সড়ক ৮০-৯০ ফুট প্রশস্ত করে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়।

তখন লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যতে যানবাহনের গতি অক্ষুন্ন রেখে মহাখালী-বনানী করিডরকে গতিশীল রাখা।

তবে এরইমধ্যে ওই জায়গায় বিআরটিএ ভবন, সেতু ভবন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়, সড়ক বিভাগের বিদেশি সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পগুলোর কার্যালয়সহ কয়েকটি স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বনানী ও চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায় ওই খালি জায়গায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প নামানো হয়েছে।

স্থপতি ইকবাল হাবিব বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্ব যেখানে যানবাহন চলাচলের জন্য সড়ক উন্মুক্ত রাখার কথা, সেখানে তারাই জায়গা দখল করে ফেলছে।

“বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পর বিমানবন্দর সড়কে যানবাহনের যে চাপ তৈরি হবে, সেই চাপ ব্যবস্থাপনার জন্য এই জায়গা রাখা হয়েছিল। এই জমি সড়ক সম্প্রসারণের জন্য রাখা হয়েছিল, ভবন তৈরির জন্য নয়। যাদের কাস্টডিয়ান রাখা হয়েছিল তারাই সেটা নষ্ট করে ফেলছে। এটা অন্যায়।”

ওই জায়গায় ভবন নির্মাণে আপত্তি জানিয়ে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজার পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বিমানবন্দর সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক। এ সড়কের পাশে কাকলী মোড়ের উত্তরে এবং ২৭ নম্বর সড়কের দক্ষিণে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম পরিদর্শনের সময় দেখতে পান।

ঢাকা শহরে সুশৃঙ্খল যান চলাচলের স্বার্থে ও অদূর ভবিষ্যতে সড়কটি আরও প্রশস্তকরনের প্রয়োজন হতে পারে বলে সেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা না করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এ অবস্থায় ওই জায়গায় কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে, যাতে ভবিষ্যতে যানবাহন চলাচল সহজ করার জন্য সড়কটি আরও প্রশস্ত করা যায়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক