১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউপি নির্বাচন: ভোটের তারিখ চূড়ান্তে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক বৃহস্পতিবার

সভায় ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য আসনে নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হবে। 

amrito.shil amrito.shil

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Sep 2026, 12:21 AM

Updated : 17 Sep 2026, 12:21 AM

স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর থেকে শুরু করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাত ধাপের এই নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্তে বৃহস্পতিবার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক বসছে। এতে ২১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রধান/প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

একইসঙ্গে আগামী সপ্তাহে দলগুলোর সঙ্গে মত বিনিময় করে তফসিল ঘোষণারও প্রস্তুতি চলছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে ১৪ সেপ্টেম্বর ইসির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেওয়া হয়। সভায় ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য আসনে নির্বাচন নিয়েও আলাপ হবে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়। আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে ইসি।

এদিকে নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এরইমধ্যে আচরণবিধি জারি করেছে ইসি। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউপিতে জামানতের পরিমাণ ও নির্বাচনী ব্যয় বাড়িয়ে নির্বাচন বিধি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং হলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে ইসি সচিবালয়।

পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য করে ভোটের বাইরে রাখাসহ অন্তত পাঁচটি সংশোধন প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তবে চলতি মাসে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতির মধ্যে আইন সংশোধন করতে হলে তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ও সংসদে উপস্থাপনের বিষয় রয়েছে। সংসদের সবশেষ তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর। পরবর্তী অধিবেশন ১০ নভেম্বরের মধ্যে হবে। ফলে অধিবেশন না থাকলে জরুরি সংশোধন অধ্যাদেশ আকারে করতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে ভোটের আগে বিদ্যমান স্থানীয় সরকার আইন সংশোধন নিয়ে ‘অনিশ্চয়তা’ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আমরা আইনে সংশোধন প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এখন তা আইন বা অধ্যাদেশে সংশোধন করবে কিনা তা সরকারের বিষয়। কমপক্ষে তফসিল ঘোষণার সময় এ সংশোধনগুলো হলে তা বাস্তবায়ন করা যাবে।”

তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আইনে নতুন কোনো বিধান যুক্ত হলে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমার দেওয়ার আগেই হতে হবে; কারণ রিটার্নিং কর্মকর্তারা এসব বিষয় অনুসরণ করবেন। সে জন্য কমিশন এসব সংশোধনীর জন্য তফসিল পযন্ত অপেক্ষা করতে পারবে।

অবশ্য রহমানেল মাছউদ বলছেন, “ইসির নতুন সুপারিশ আমলে না নিলে বা সরকার কোনো সংশোধনী না আনলে বিদ্যমান আইনের আলোকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্রবাহিনী যুক্ত করা, বিধি লঙ্ঘনে শাস্তি বাড়ানো, দ্বৈত নাগরিক ও এমপিওভূক্তদের ভোটে অযোগ্য, কেউ খেলাপির জামিনদার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) এর অভিযোগপত্র হলে প্রার্থী হতে পারবেন না- এমন বিষয়ে পাঁচটি দফা/উপ-ধারায় সংশোধন প্রস্তাব রয়েছে।

ইসির সংশোধন প্রস্তাবের একটি বিষয়ে আপত্তি দিয়ে ইতোমধ্যে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এমপিওভূক্তদের ভোটে রাখার দাবি জানিয়ে এসেছে।

এ বিষয়ে ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ইসির সংশোধন প্রস্তাবে সরকার সায় না দিলে বা সংশোধন না হলে এমপিওভুক্তদের ভোটে অংশ নিতে কোনো বাধা থাকবে না। আর ইসির প্রস্তাব অনুমোদন হলে এমপিওভুক্তরা এবার ভোটে অংশ নিতে পারবে না।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। প্রথম ধাপে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ১২ নভেম্বর বলে দাবি করেন তিনি।

কিন্তু ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছু জানে না বলে সাফ জানিয়ে দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

একইদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেন, ইসি কর্তৃক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে সম্ভাব্য সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, তা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বৃহস্পতিবার আন্তমন্ত্রণালয় সভার মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে তথ্য দিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ওই দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন।

নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “পাঁচটি ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে, পাশাপাশি দুটি ধাপ রিজার্ভ রাখা হয়েছে। তবে এটি একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচি। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ইনপুট নেওয়া হবে। এরপর এসব মতামতের ভিত্তিতে কমিশন ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করবে।”