২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ভোটের বিলম্বে’ ভোটার স্থানান্তর ফের চালু

“নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী আমরা মনে করছি, নির্বাচন হতে এখনও দেরি আছে,” বলেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।

‘ভোটের বিলম্বে’ ভোটার স্থানান্তর ফের চালু

নির্বাচনে ভোটারের লাইন। ফাইল ছবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 23 Sep 2026, 09:02 PM

Updated : 23 Sep 2026, 09:02 PM

দেশজুড়ে ফের ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম চালু করেছে নির্বাচন কমিশন-ইসি।

বুধবার মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

যদিও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলতি মাসে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতির মধ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভোটার স্থানান্তর বন্ধ করা হয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে হালনাগাদ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয় অগাস্টে। ইসির পরিকল্পনা ছিল নভেম্বরে ইউপি ভোট শুরু করবে, আর সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ লক্ষ্যে ভোটার তালিকা মুদ্রণ কাজে হাত দেবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে দেরি হবে বলে ভোটার স্থানান্তর প্রক্রিয়া আবার চালু করা হয়েছে কিনা, সে ব্যাপারে কিছু বলেনি ইসি।

তবে এরইমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নভেম্বর-ডিসেম্বরে পরীক্ষা রয়েছে।

সে বিবেচনায় ওই সময় যদি না পারা যায় সেক্ষেত্রে বছরের শুরুতেই ভোট শুরুর কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেছেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যে কোনোদিন হতে পারে।

বুধবার স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যেও ভোট পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এসেছে।

‘ভোটের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ বছর হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণ যেহেতু নির্বাচন কমিশন ঠিক করেনি। তারা প্রথমে একটা তারিখ নির্ধারণ করে বলেছে যে, ৬ জুনের মধ্যে তারা নির্বাচনগুলো শেষ করতে চায়।

“নির্বাচন যেহেতু আরও দেরি আছে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী আমরা মনে করছি, নির্বাচন হতে এখনও দেরি আছে। তাই এ মুহূর্তে মানুষের প্রতিক্রিয়া কী—তা বলা কঠিন; নির্বাচনের সময় হলেই কেবল তা বোঝা যাবে।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রমজান মাস, এসএসসি পরীক্ষা ও ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার কথা বিবেচনা করেই হয়ত ইসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই সাধারণত ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে নির্বাচন কমিশন ঠিক কবে ভোট শুরু ও শেষ করবে এবং মোট খরচ কত হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো সরকারকে জানায়নি।

ভোটার স্থানান্তর চালু

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জানুয়ারিতে ভোট করতে হলে নভেম্বরে তফসিল করতে হবে ইসিকে, সেক্ষেত্রে ফের ভোটার স্থানান্তরও চালু করল ইসি।

ভোটার স্থানান্তর চালুর বিষয়ে বুধবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত মাঠ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তর সংক্রান্ত আবেদন গত ১০ সেপ্টেম্বর মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য গত ২ সেপ্টেম্বর মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়ে ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম পুনরায় চালু করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়ে আগের মতো ভোটার স্থানান্তরের আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাইপূর্বক ইস্যুকরণ ও নিষ্পত্তি করতে হবে।

আগের খবর:

স্থানীয় নির্বাচন: ভোটার এলাকা বদলের আবেদন ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

নভেম্বরে না হলে কবে ইউপি নির্বাচন শুরু করবে ইসি