তাজিয়া মিছিলে জঙ্গি হামলার শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার

কোভিড মহামারীর কারণে মুসলিম শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিল দুবছর বন্ধ ছিল।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 August 2022, 12:22 PM
Updated : 4 August 2022, 12:22 PM

আশুরার দিনে তাজিয়া মিছিলে জঙ্গি হামলার কোনো আশঙ্কা দেখছে না ঢাকা মহানগর পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকালে পুরান ঢাকার হোসাইনী দালানে আশুরায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার মুহা. শফিকুল ইসলাম।

কোভিড মহামারীর কারণে শিয়া মুসলমানদের তাজিয়া মিছিল দুই বছর বন্ধ ছিল। এবার আবার তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। ৯ অগাস্ট আশুরা হলেও আগের তিন দিনও কিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকবে।

পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “২০১৫ সালে দুর্ভাগ্যজনক একটি ঘটনা ঘটেছিল, কিছু জঙ্গি তৎপরতা এখানে ছিল। আপাতত গোয়েন্দা ও সিটিটিসির (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) পক্ষ থেকেও ঝুঁকির কোনো তথ্য নেই।"

আগামী ৯ অগাস্ট আশুরার দিনে রাজধানীর যে সব সড়কে তাজিয়া মিছিল যাবে, সেখানকার নিরপত্তা ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হয়েছে জানান পুলিশ কমিশনার।

তিনি বলেন, “যেসব এলাকা থেকে মিছিল বের হবে, সে জায়গাগুলো ডগ স্কোয়াড ও বম ডিসপোজাল ইউনিট দিয়ে তল্লাশি করা হবে।“

এ ছাড়া ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ‘চেকপোস্ট’ ছাড়াও পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন বলে জানান কমিশনার।

তিনি বলেন, আশুরার কয়েক দিন আগে থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক হোটেল ও মেসে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ‘রেইড’ এবং ‘ব্লক রেইড’ পরিচালনা করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘কোনো অপপ্রচার বা হিংসাত্মক কোনো বক্তব্য’ দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটাও পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এ ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতে গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে একসাথে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন “গোয়েন্দা কোনো তথ্য পাওয়া গেলে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সে অনুযায়ী ঢেলে সাজানো হবে। তাজিয়া মিছিল চলাকালে পুলিশের ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের চিকিৎসক থাকবে। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সেই অনুযায়ী...।“

হিজরি মহররম মাসের ১০ তারিখ আশুরা মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক। কারবালার স্মরণে বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন।

এই দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন। সেই থেকে মুসলিম বিশ্বে কারবালার ঘটনাকে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে পালন করা হয়।

আশুরার দিন প্রধান তাজিয়া মিছিলে অংশ নিতে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকার শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ সকাল থেকেই হোসেনি দালানের সামনে জড়ো হতে থাকেন। ইমামবাড়ার সামনে থেকে ‘হায় হোসেন-হায় হোসেন’ মাতম তুলে শুরু হয় বিশাল তাজিয়া মিছিল।

২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর তাজিয়া মিছিলের জন্য পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে হোসাইনী দালান ইমামবাড়ায় সমবেত হয়েছিলেন ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ। সে সময় জঙ্গিদের বোমা হামলায় অর্ধশত মানুষ আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক