রাজশাহীর সেই দুই শিশু নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি: আইইডিসিআর

“এ বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। আমাদের একটি টিম এরইমধ্যে রাজশাহী রওনা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কারণ জানা যাবে,” বলেন আইইডিসিআরের পরিচালক।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Feb 2024, 01:44 PM
Updated : 18 Feb 2024, 01:44 PM

রাজশাহীতে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাত্র চারদিনের ব্যবধানে যে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে, তারা নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল না বলে জানিয়েছেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন।

দুই শিশুর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার কথা জানিয়ে রোববার তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ওই দুই শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে তারা নিপা ভাইরাস আক্রান্ত ছিল কিনা পরীক্ষা করেছি। তাদের দুজনের পরীক্ষায়ই নেগেটিভ ফল এসেছে।”

তাদের মৃত্যুর কারণ তাহলে কি- এমন প্রশ্নে ডা. তাহমিনা বলেন, “তারা অন্য কোনো কারণেও মারা যেতে পারে। তাদের মৃত্যুর কারণ অন্য কোনো ভাইরাস কিনা তা আমরা জানার চেষ্টা করছি।

“এ বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। আমাদের একটি টিম এরইমধ্যে রাজশাহী রওনা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কারণ জানা যাবে।”

শিশু দুটির নাম মুনতাহা মারিশা ও মুফতাউল মাশিয়া।

এ দুই শিশুর মধ্যে বড় বোন মাশিয়া শনিবার বিকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মারা যায়। চার দিন আগে বুধবার হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় মুনতাহা মারিশার।

ভাইরাসজনিত কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা ধারণা করলেও কোন ভাইরাসে তারা আক্রান্ত হয়েছিল তা নিশ্চিত হতে পারেননি। ওই অবস্থায় দুই শিশুর বাবা-মাকে কোথাও যেতে না দিয়ে হাসপাতালেই আইসোলেশনে রাখা হয়।

দুই শিশুর বাবা-মা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, শিশুরা কুড়িয়ে আনা বরই না ধুয়ে খেয়েছিল, তারপরই তাদের জ্বর আসে।

পরে তাদের মৃত্যুর কারণ জানতে দুই বোনের নমুনা পাঠানো হয় ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান- আইইডিসিআরে।

শিশু দুটির বাবা মনজুর রহমান রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক। তার স্ত্রী পলি খাতুন গৃহিণী। তাদের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার চুনিয়াপাড়া গ্রামে। তবে তারা রাজশাহীর চারঘাটের সারদায় ক্যাডেট কলেজের কোয়ার্টারেই থাকতেন।

Also Read: জ্বরে ভুগে ৪ দিনে দুই বোনের মৃত্যু, রামেকে আইসোলেশনে বাবা-মা