সমালোচনায় আত্মবিশ্বাস যেন না টলে: প্রধানমন্ত্রী

“আমাদের আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে যে আমরা সঠিক পথে আছি কি না, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছি কি না।”

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 July 2022, 09:36 AM
Updated : 23 July 2022, 09:36 AM

সমালোচনায় কান না দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন এবং বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক-২০২২ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন তিনি।

মহামারীর মধ্যে যুদ্ধের প্রভাবে সঙ্কটময় পরিস্থতিতে সরকার যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি জানি, পত্র-পত্রিকা নানা কথা লিখবে, টক শোতে অনেক কথা বলবে, বিরোধী দলরা কথা বলবে। হ্যাঁ, বিরোধী দলরা বলবেই, বলাই তাদের কর্তব্য। তারা বলে যাক।

“আমাদের আত্নবিশ্বাস থাকতে হবে যে আমরা সঠিক পথে আছি কি না, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছি কি না, সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি কি না এবং দেশের সাধারণ মানুষ অর্থাৎ গ্রামের এই তৃণমূল মানুষটা সে সেবা পাচ্ছে কি না।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যদি সেভাবে চিন্তা করি, কে কী বলল, সেদিকে আমাদের খুব বেশি একটা নজর দিতে হবে না। কে কী বলল, সেটা শুনে তা আমরা দেখতে পারি, কোথাও আমদের কোনো ঘাটতি আছে কি না, সেটুকু আমরা নেব। কিন্তু এই কথায় যেন কেউ বিভ্রান্ত না হন, কেউ যেন হতাশাগ্রস্ত না হন, আমি এইটুকু বলব।”

বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “যখন যে অবস্থা হবে, সেই অবস্থার সাথে মানিয়ে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। তারপরও আমাদের যতটুকু নিজেদের ব্যবস্থা আছে সেটা দিয়ে আমরা চলব।”

চলমান বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে করোনাভাইরাস মোকাবেলা, তার উপর আরেকটা আঘাত আসল রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ। এই যুদ্ধের সাথে সাথে আবার আমেরিকা রাশিয়ার উপর দিল স্যাংশন। ডলারে আদান প্রদান বন্ধ করে দেওয়া। কাজেই আমাদের মতো দেশ না, আজকে উন্নত দেশগুলোও বা ইউরোপ আমেরিকার সকলে এখন কিন্তু ভুক্তভোগী।”

যুদ্ধের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজকে আমাদের সার কেনা, খাদ্য কেনা, জ্বালানি তেল কেনা সবকিছুই কিন্তু বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটা কিন্তু আমরাই না সারাবিশ্বই আজকে একটা দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

“কাজেই আমি মনে করি যে কেউ যদি মনে করেন একটা স্যাংশন দিলেই একটা দেশকে শিক্ষা দেওয়া গেল, সেটা দিতে গিয়ে সবাই কিন্তু সেই শিক্ষা ভোগ করছে। সেই শিক্ষায় এখন সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

বাংলাদেশের চেয়ে উন্নত দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বেশি হয়ে যাওয়ার তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনি ইংল্যান্ড বলেন, আমেরিকা বলেন বা ইউরোপের দেশ বলেন, প্রত্যেকটা উন্নত দেশের কথাই বেশি বলব, তাদের অবস্থাই হচ্ছে এই ধরনের করুণ। কাজেই আমরা কোথায়?”

সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রশাসনের কর্মকর্তারা বা আমাদের অন্যান্য সমস্ত সংস্থার প্রত্যেকে স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করছেন বলেই কিন্তু আমরা এখনও আমাদের দেশকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছি।

“তবুও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে, আমাদের মিতব্যয়ী হতে হবে এবং অহেতুক যেন কোনো অপচয় না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।”

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সমাবেশে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা বর্তমান কর্মকর্তাদের শোনান শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “সরকারি কর্মচারী ভাইয়েরা আপনাদের জনগণের সেবায় নিজেদেরকে উৎসর্গ করতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। এখন থেকে অতীতের আমলাতান্ত্রিক মনোভাব পরিবর্তন করে নিজেদেরকে জনগণের খাদেম বলে বিবেচনা করতে হবে।”

“অর্থাৎ জনগণের সেবক, জনগনের খাদেম, জনগণের জন্য কাজ করা, জনগণের স্বার্থে কাজ করা, জনস্বার্থে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে দায়িত্ব পালন করা, এটাই আপনারা করবেন এবং সেটা আপনারা করছেন,” বলেন শেখ হাসিনা।

দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে জাতির পিতা ও আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরার পাশপাশি জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর যারা সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে সরকারে এসেছিল, তাদের ‘দুঃশাসনের’ চিত্রও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, জনপ্রশাসণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান, মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক