দুর্গা পূজায় মণ্ডপে মণ্ডপে থাকবে সিসি ক্যামেরা

আগামী ১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে এ বছরের দুর্গাপূজা শুরু হবে; ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Sept 2022, 10:53 AM
Updated : 11 Sept 2022, 10:53 AM

বাঙালি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় দেশের প্রতিটি মণ্ডপে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পূজা শুরুর দিন থেকে শেষ পর্যন্ত দিনরাত ২৪ ঘণ্টা মণ্ডপে আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

দুর্গাপূজা সামনে রেখে রোববার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি নিয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আগামী ১ অক্টোবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে এ বছরের দুর্গাপূজা শুরু হবে; ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের।

মন্ত্রী বলেন, চলতি বছর দেশে পূজামণ্ডপের সংখ্যা গতবারের তুলনায় বাড়ছে। এ বছর মোট ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে।

গত বছর কুমিল্লার নানুয়া দিঘীর পাড় পূজা মণ্ডপের ঘটনা মাথায় রেখে এবারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের বলেছি, প্রতিটি মণ্ডপে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) থাকা বাধ্যতামূলক, আর সার্বক্ষণিক নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল থাকতে হবে।

“এছাড়া মণ্ডপের সংখ্যা যাতে আর না বাড়ে, এমন জায়গায় যাতে না হয় যেখানে গাড়ি বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পৌঁছতে সমস্যা হয়।“

  • ১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু, বিজয়া দশমী ৫ অক্টোবর

  • সারাদেশের ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে এবার দুর্গাপূজা হবে

  • মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক

  • নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২৪ ঘণ্টা মণ্ডপে থাকবে আনসার

  • পুলিশ সদরদপ্তর আর জেলা পর্যায়ে খোলা হবে কন্ট্রোল রুম

  • মাঠে থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত

সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করার সামর্থ্য সব মণ্ডপের আছে কি না- সে বিষয়ে দৃষ্টি আকষর্ণ করলে মন্ত্রী বলেন, “আমরা বলেছি, সব জায়গায় মণ্ডপ তৈরি না করতে। আর সিসি ক্যামেরার তেমন দামও না, আবার ভাড়াও পাওয়া যায়।“

এবার নাশকাতর শঙ্কা আছে কি না, সেই প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “গোয়েন্দাদের কাছে তেমন কোনো নাশকতার খবর নেই। ওই ধরনের তথ্য পাওয়া গেলে গোয়েন্দারা ব্যবস্থা নেবেন।“

নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কেন কুমিল্লার ঘটনা ঘটল- এ প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায় চাপালেন পূজা আয়োজকদের ওপর।

“তারা আমাদের কথা শোনেননি। যদি কুমিল্লায় স্বেচ্ছাসেবক থাকত, তাহলে ওই ঘটনা ঘটত না। কুমিল্লার মণ্ডপে একজন নিরাপত্তাকর্মী ছিল। তাও সে মণ্ডপ থেকে অনেক দূরে বেঞ্চে রাতে ঘুমিয়ে ছিল।“

গতবছরের দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লা শহরে একটি মন্দিরে কুরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে কয়েকটি মন্দিরে হামলা হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় সেখানে।

কুমিল্লার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, চট্টগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কক্সবাজার, নোয়াখালী ও রংপুরেও হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে।

মন্ত্রী বলেন, “এমন এমন পূজামণ্ডপ রয়েছে, দেয়ালের এপাশ- ওপাশ। এত কাছাকাছি দুটি মণ্ডপ না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।“

যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, পুলিশ সদরদপ্তর আর জেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। এছাড়া মাঠে থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বক্ষণিক নজরদারিও থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এবারে যাবতীয় নিরপত্তা ব্যব্স্থায় ‘সম্প্রীতির’ বাংলাদেশে আর কোনো অঘটনা ঘটবে না বলেই তিনি আশা করছেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক