দেশবাসী তাকিয়ে আছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন: নাহিদ
“স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের দায়িত্ব পালন না করে সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন,” বলেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন’ অভিযোগ করে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, “আজ (সোমবার) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করানো হল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলার জন্য যিনি প্রধানত দায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তাকে কোনো ধরনের জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হচ্ছে না।
“দেশবাসী তাকিয়ে আছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন। কারণ তিনি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। নিজের দায়িত্ব পালন না করে সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।”
এনসিপি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর শ্রীশ্রী পূর্ব বাড্ডা নিমতলা কালী মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে নাহিদ ইসলাম একথা বলেন।
ঢাকার গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকায় শনিবার অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ যান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। ওই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়ালে বিতর্ক তৈরি হয়। এ নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে সোমবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা দেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক।
নাহিদ ইসলাম ওই ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ তুলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এর আগে মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টার ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করলেও তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।
নাহিদের অভিযোগ, “এক ব্যক্তির ইচ্ছা, অনিচ্ছা, অনুরোধ বা নির্দেশনামতো দেশ চলতেছে। এটা কোনো গণতন্ত্রের উদাহরণ নয়, আইনের শাসনের উদাহরণ নয়।”
সংবিধান সংশোধন কমিটিরও সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে সরকার এখনো নাটক করছে। এ কমিটিকে এ দেশের মানুষ প্রত্যাখান করেছে। দলীয় সুশীল বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে কমিটি বৈঠক করছে। তাদের দিয়ে বিএনপি নিজেদের মেনে নেওয়া সংস্কারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে। এসব জনগণের সঙ্গে প্রহসন।”
মন্দির পরিদর্শনের সময় এনসিপির মুখপাত্র ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
