মন্ত্রিসভার সদস্যকে পদত্যাগ করতে বলা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যেই পড়ে: অ্যাটর্নি জেনারেল
কোনো নাগরিকের সামনে আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হতে দেখলে তাকেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করার অধিকার আইনে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যকে পদত্যাগ করতে বলা প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্ষমতার বাইরে নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সোমবার নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তার জুরিসডিকশনের মধ্যে তার মন্ত্রিসভার যে কোনো গঠন, পুনর্গঠন, সদস্য নিয়োগ দিতে পারেন—এগুলো তো ক্ষমতার মধ্যে আছেই। এটা তো ক্ষমতা বহির্ভূত কোনো কাজ না।”
অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে রোববার রাতে খবর আসে।
তবে রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ইরশাক দাবি করেন, তিনি নিজেই ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছার কথা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলেন।
মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের অস্ত্র বহন নিয়ে আইনি ব্যাখ্যা জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা মামলা শুরু হলে এ বিষয়ে আইনের ব্যাখ্যার প্রশ্ন আসে।
“বাইরে থেকে পাবলিক কোনো ইস্যুর উপরে আমাদের মন্তব্য করা কিংবা আইনি ব্যাখ্যার প্রয়োজন নাই।”
তবে অস্ত্রের লাইসেন্স ও ব্যবহারের সাধারণ বিধান তুলে ধরে কাজল বলেন, “একজন ব্যক্তিকে বৈধ অস্ত্র লাইসেন্স দেওয়া হয় কেন? মূলত দেওয়া হয় এটা তার আত্মরক্ষার জন্যে এবং তিনি আত্মরক্ষার জন্যেই অস্ত্রটি ব্যবহার করবেন।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, “অপরাধীদের ধরা, গ্রেপ্তার করা, তাদের আইনের সোপর্দ করা, বিচারের মুখোমুখি করা—এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।”
কোনো নাগরিকের সামনে আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হতে দেখলে তাকেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করার অধিকার আইনে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি বলেন, “যে কোনো নাগরিকও কিন্তু তার সামনে কোনো কগনিজেবল অফেন্স ঘটতে দেখলে তারও কিন্তু ক্ষমতা ও অধিকার আছে তাকে আটক করার।”
ইরশাকের ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নে কাজল বলেন, “যেহেতু এটি একটি রাজনৈতিক বিষয়, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করছি না। আইনের যে বিধান, সেই বিধানটুকু আমি বললাম। আপনারা নিশ্চয় প্রত্যাশা করেন না যে আমি এখন কোনো জাজমেন্ট দেব। আমি তিনটা আঙ্গিকে বললাম, তিনটাই আইনের কথা।”
