সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতার চ্যালেঞ্জ দেখছেন সাবের

“বেষ্টনীর ফলে এখন নদী ভাঙন সমস্যা আরও তীব্র হচ্ছে; এর ফলে নদীর পানি প্লাবনভূমিতে প্রবেশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, নদীর উপর চাপ বাড়ছে,” বলেন নজরুল ইসলাম।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 Feb 2024, 12:48 PM
Updated : 1 Feb 2024, 12:48 PM

দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে আরো সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, “আগামী ৫০ বছর বাংলাদেশকে কীভাবে দেখব; কীভাবে দেখতে চাই- এটা অনেকটা নির্ভর করছে আন্তঃমন্ত্রণালয় সম্পর্কের উপর।”

বৃহস্পতিবার পানি ভবনে ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পানি উন্নয়ন প্রচেষ্টার অভিমুখীনতা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার তাৎপর্য এবং তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট কর্মধারা' শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাবের হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয়গুলো যে সিদ্ধান্ত নেয় তা এককভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সে কারণে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

“যেমন বায়ুদূষণের মাত্রাটা দিয়ে দেই, সেটা বাস্তবায়ন করতে বিআরটিএ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজন আছে৷ সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে, সেটা নিয়ে কোনো দ্বিধা থাকার কথা না৷”

প্লাবনভূমিকে নদী থেকে বিচ্ছিন্ন করার ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের অবক্ষয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সাবের।

“এর সঙ্গে জীবিকার বিষয়গুলোও জড়িত৷ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই মন্ত্রণালয়ের কাজও অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাচ্ছে৷ নদ-নদীর পাড় ভাঙন, হাজার হাজার মানুষ স্থানচ্যুত হচ্ছে।”

নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন বলে জানান পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।

নদী নিয়ে বাস্তবায়ন হওয়া প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরেন জাতিসংঘের সাবেক উন্নয়ন গবেষণা প্রধান নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “বেষ্টনীর ফলে এখন নদী ভাঙন সমস্যা আরো তীব্র হচ্ছে৷ এর ফলে নদীর পানি প্লাবনভূমিতে প্রবেশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, নদীর উপর চাপ বাড়ছে। ভাঙন কমাতে উন্মুক্তপন্থা গ্রহণ প্রয়োজন।”

নজরুল ইসলামের কথার সূত্র ধরে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, “গত ছয় দশকে দেশ ভ্রান্তপথে এগিয়ে গেলেও জনসংখ্যা বাড়ার ফলে বর্তমানে প্লাবন ভূমিগুলো জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে।”

এ কারণে রাজনৈতিক সরকারের পক্ষে পানিকে প্লাবনভূমিতে যেতে দেওয়ার সুযোগ দেখছেন না তিনি।

“পানিটাকে যদি প্লাবনভূমিতে এলাও হতে দেই- গ্রাম, স্থাপনা সব ভেঙেচুরে শেষ হয়ে যাবে৷ তখন রাজনৈতিক সরকারের জনগণের সামনে কথা বলা কষ্টকর হবে৷ এই বিষয়গুলো আমাদের চিন্তা করতে হয়৷”

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার না করে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলে নিজেদেরই ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে৷

“বিশ্ব কমিউনিটি, বৈশ্বিক নেতাদের ভাবতে হবে- এই সম্পদকে সঠিক ব্যবহার করতে হবে৷ সবাইকেই যার যার জায়গা থেকে কাজ করতে হবে৷”