ব্যাটারি রিকশার আন্দোলনে ‘অংশ না নেওয়ায়’ চালকদের মারধর
“নিজের রিকশা বন্ধ করে অনেকে এসেছে, অন্যরা না আসায় এমন বিচ্ছিন্ন দু-একটা ঘটনা ঘটেছে।”
ব্যাটারি রিকশার এক আন্দোলনে ‘অংশ না নেওয়ায়’ ঢাকার নিউ মার্কেট ও ধানমন্ডির শংকরে রিকশার তার ছিঁড়ে ফেলেছেন একদল ব্যক্তি। এর মধ্যে শংকরে চালকদের মারধরও করা হয়েছে।
রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিউ মার্কেট এলাকায় বেশ কিছু ব্যাটারি রিকশা আটকে তার ছিঁড়ে দিতে দেখা যায় একদল ব্যক্তিকে।
এরপর সকাল ৮টার দিকে ধানমন্ডির শংকর বাসস্ট্যান্ডেও ২০-২৫ জনের একটি দলকে চালকদের ওপর চড়াও হতে দেখা যায়।
এ সময় ২০-২৫টি রিকশার তার ছিঁড়ে ফেলা হলে চালকদের কয়েকজন সংগঠিত হয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। তখন আন্দোলনের পক্ষের ব্যক্তিরা চালকদের মারধর করেন। এতে সেখানে অন্তত তিনজন আহত হন।
আহত চালক রাইসুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোথায় আন্দোলন চলে, তা আমরা জানি না। সকালে অটো নিয়ে বের হয়েছি, এখন কিছু না বলে তার ছিঁড়ে ফেলছে। জিজ্ঞাসা করায় আমাদের মারধর করেছে।”
আন্দোলনের পক্ষের একজন নিউটন নিজেকে ব্যাটারি রিকশার চালক দাবি করে বলেন, “চার দিন আগে আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আজকে তারা আন্দোলনে না যাইয়া রাস্তায় নামছে।
“এই জন্য তার ছিঁড়তেছি। তারা আবার উল্টো বলে জানে না, তাই মাইর খাইছে।”
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দপ্তর সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, “পাঁচ দিন আগে প্রেস ক্লাবের সামনে আমাদের বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল। আজ এমন কোনো কর্মসূচি নেই।”
সোহেল রানার ভাষায়, কোনো ‘ভুঁইফোড়’ সংগঠনের রোববার কর্মসূচি থাকতে পারে।
এদিন সকাল ১১টায় হাজারীবাগ বেড়িবাঁধের বউবাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সংগঠন রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন।
চালকদের মারধর ও তার ছেঁড়ার ঘটনার সঙ্গে এ কর্মসূচির যোগসূত্র আছে কি না, এমন প্রশ্নে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মঞ্জুর মঈন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত নন—এমন কিছু রাজনৈতিক লোকজন ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক সেজে অনুপ্রবেশ করছেন, সেটা আমাদের চোখে পড়েছে। আমাদের কোনো আন্দোলনে জনগণের কোনো প্রকার হয়রানি হতে হয় না।
“আমাদের আন্দোলন জনগণের জন্যই। এটা যারা করছে, তারা কোনো রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য করছে।”
জানতে চাইলে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পুলিশি বাধায় সকাল ৯টার দিকে দ্রুত মিছিল শেষ করে সরে যাই। দু-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।
“এটা ক্ষোভের কারণে হয়েছে। নিজের রিকশা বন্ধ করে অনেকে এসেছে, অন্যরা না আসায় এমন বিচ্ছিন্ন দু-একটা ঘটনা ঘটেছে।”
