সচল হবে ১৪৬৬টি চিংড়ি মহাল, অপরিশোধিত সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত
চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং এ খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।
এক যুগ ধরে বন্ধ থাকা কক্সবাজারের ১৪৬৬টি চিংড়ি মহাল সচল করাসহ বিভিন্ন চিংড়ি মহালের অপরিশোধিত সুদ সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এছাড়া দেশের চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং এ খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মঙ্গলবার আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি সচিব এমদাদুল হক চৌধুরী, কক্সবাজারের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, “চিংড়ি মহাল থেকে কার্যকরভাবে সরকারি রাজস্ব আদায়, অতীতের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং এ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
"প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য, কোনও হয়রানি ছাড়াই দেশের বঞ্চিত মানুষের কাছে স্বচ্ছভাবে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া। চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ভূমি মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে- যেসব জমিতে বন নেই, সেসব জমি বন বিভাগের গেজেট থেকে বাদ দিয়ে চিংড়ি চাষের জন্য অবমুক্ত করা। বন, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকা ১ লাখ ৯৫ হাজার একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি কর্তৃক দায়ের করা হাই কোর্টে রিট মামলার কারণে ২০১২-১৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বন্ধ থাকা কক্সবাজারের ১৪৬৬টি চিংড়ি মহালের কার্যক্রম সচল করতে মামলা নিষ্পত্তির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। ১৯৯২ সালের চিংড়ি মহাল কমিটি পুনর্গঠন। নতুন করে খাজনা নির্ধারণ এবং ইতিপূর্বের অপরিশোধিত সুদ সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্ত।
