জনশুমারি যা জানাল

মোট জনসংখ্যায় নারীদের তুলনায় পুরুষের অনুপাত এখনই সবচেয়ে কম।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : 27 July 2022, 07:14 PM
Updated : 27 July 2022, 07:14 PM

বর্তমানে দেশে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ বেশি, ২০১১ সালে পরিস্থিতি ছিল উল্টো।

২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন

এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৮ কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৮২৪ জন; নারী ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার ২০৬; আর হিজড়ার আছেন ১২ হাজার ৬২৯ জন।

এই হিসাবে বর্তমানে প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে পুরুষ আছেন ৯৮.০৪ জন। এগার বছর আগে ২০১১ সালে নারী-পুরুষের এই অনুপাত ছিল ১০০: ১০০.৩।

সে সময় দেশের মোট জনসংখ্যা পাওয়া গিয়েছিল ১২ কোটি ৪৩ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৩ জন।

তখন পুরুষ ছিলেন ৭ কোটি ২১ লাখ ৯ হাজার ৭৯৬ জন, নারী ছিলেন ৭ কোটি ১৯ লাখ ৩৩ হাজার ৯০১ জন। ট্রান্সজেন্ডারদের সংখ্যা সে সময় আলাদাভাবে গণনা করা হয়নি।

১৯৭৪ সালে নারী-পুরুষের অনুপাত ছিল ১০০:১০৮; ১৯৮১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ছিল ১০০: ১০৬।

অর্থাৎ, মোট জনসংখ্যায় নারীদের তুলনায় পুরুষের অনুপাত এখনই সবচেয়ে কম।

বুধবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনার এ প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা

বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯ জন।

এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের মোট জনসংখ্যার ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, যা সব বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ হার বরিশাল বিভাগে ০ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা সর্বনিম্ন।

ঢাকা বিভাগে দশমিক ১৯ শতাংশ, খুলনা বিভাগে দশমিক ২২ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে দশমিক ৫০ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে ১ দশমিক ২০ শতাংশ, রংপুর বিভাগে দশমিক ৫২ শতাংশ এবং সিলেট বিভাগে ১ দশমিক ২৪ শতাংশ ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর নাগরিকের বসবাস।

ধর্মভিত্তিক হার

গত ১১ বছরে দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনসংখ্যা আরও বেড়ে মোট জনংখ্যার ৯১ দশমিক ০৪ শতাংশ হয়েছে। ২০১১ সালের শুমারিতে এই হার ছিল ৯০ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

অপরদিকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ হয়েছে।

একইভাবে বৌদ্ধ ধর্মানুসারী ০.৬২ শতাংশ থেকে কমে ০.৬১ শতাংশ, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর হার ০.৩১ শতাংশ থেকে কমে ০.৩০ শতাংশ হয়েছে।

প্রতিবন্ধীর হার

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৬০৪ জন অর্থাৎ ১ দশমিক ৪৩ শতাংশের কমপক্ষে এক ধরনের প্রতিবন্ধিতা রয়েছে।

এই হিসাবে মোট পুরুষের ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং মোট নারীর ১ দশমিক ২৩ শতাংশ প্রতিবন্ধী।

এই হার খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ঢাকা বিভাগে, ১ দশমিক ০৮ শতাংশ।

সাক্ষরতার হার

নতুন শুমারিতে দেশের ৭ বছরের বেশি বয়সীদের সাক্ষরতার হার ৭৪ দশমিক ৬৬ ভাগে উন্নীত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ২০১১ সালের শুমারিতে এই হার ছিল ৫১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

বর্তমানে দেশের ৭৬ শতাংশ পুরুষ, ৭২ দশমিক ৮২ শতাংশ নারী এবং ৫৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ হিজড়ার সাক্ষরজ্ঞান রয়েছে।

পল্লী এলাকায় ৭১ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং শহর এলাকায় ৮১ দশমিক ২৮ শতাংশ মানুষের সাক্ষর জ্ঞান রয়েছে।

সাক্ষরতার সর্বোচ্চ হার ঢাকা বিভাগে, ৭৮ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ময়মনসিংহ বিভাগে, ৬৭ দশমিক ০৯ শতাংশ।

১১ বছর আগে ২০১১ সালে বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে বরিশাল বিভাগে সাক্ষরতার হার সর্বোচ্চ ৫৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং সিলেট বিভাগে সর্বনিম্ন ৪৫ দশমিক ০১ শতাংশ ছিল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক