‘দুর্বল হচ্ছে’ হামুন, তবে জনবহুল অঞ্চলে আঘাত নিয়ে শঙ্কা
ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব থাকবে বেশি ভোলা, মনপুরা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ঝালকাঠি এলাকায়।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুন শক্তি বাড়িয়ে ‘অতি প্রবল’ হয়ে উঠলেও আবহাওয়া অধিদপ্তর মনে করছে উপকূলে আঘাত হানার সময় এর শক্তি কমে যাবে।
তাই বলে নির্ভার থাকার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, ঘূর্ণিঝড়টির গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আজিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন পর্যন্ত যে প্রবণতা, তাতে ঝড়টি যাবে জনবহুল এলাকার ওপর দিয়ে। সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে।”
অধিদপ্তরের বিশ্লেষণ বলছে, ভোলা, মনপুরা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ঝালকাঠি এলাকায় ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব থাকবে বেশি।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়া হামুন বুধবার ভোররাত থেকে সকালের মধ্যে বরিশাল ও চট্টগ্রামের মাঝামাঝি হাতিয়ার ওপর দিয়ে আঘাত হানবে বলে হিসাব কষেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা হামুনের ঘূর্ণিবায়ুর চক্র বাংলাদেশ উপকূলের ২১৫ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে গেছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।
সাগর উত্তাল থাকায় দেশের চার সমুদ্র বন্দর ও উপকূলীয় জেলায় বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সন্ধ্যা থেকেই হামুন দুর্বল হতে থাকবে ইঙ্গিত দিয়ে আজিজুর রহমান বলেন, “উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় তৈরি হওয়ায় ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি সঞ্চয়ের তেমন সময় ও সুযোগ পাচ্ছে না।
“হামুন যত এগুবে তত শক্তি হারাবে। আঘাত হানার সময় তীব্রতা কমে ঘূর্ণিঝড় রূপে এটি উপকূল অতিক্রম করবে।”
অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, “উপকূল অতিক্রমের সময়ে হামুনের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট উচ্চতার জ্বলোচ্ছ্বাসে উপকূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।”
গত মে মাসে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা বাংলাদেশে আঘাত হানে। মোখার তুলনায় হামুনকে অনেকটা দুর্বল বলছেন তিনি।
ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমি ধস হতে পারে।
ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকাতেও ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, “২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৪৪ থেকে ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। বুধবার ভোরে এ এলাকায় দমকা বাতাস বইবে।”
