সাত ছাত্র নিরুদ্দেশ: সেই চিকিৎসককে গ্রেপ্তারের কথা জানাল সিটিটিসি

গ্রেপ্তারের পরদিন বুধবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক ওই ছাত্র ও তার এক সহযোগীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকআদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Sept 2022, 01:25 PM
Updated : 14 Sept 2022, 01:25 PM

কুমিল্লা থেকে সাত কলেজ ছাত্রের প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ‘নিরুদ্দেশ’ থাকার পেছনে ‘উসকানি’ রয়েছে এমন অভিযোগে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা ওই চিকিৎসক শাকির বিন ওয়ালিকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন সিটিটিসি এর প্রধান আসাদুজ্জামান।

গ্রেপ্তারের পরদিন বুধবার তাকে আদালতে তোলার পর পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। একই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার তার এক সহযোগী আবরারুল হক ভিলাকেও জিজ্ঞাসাবাদে পাঁচ দিনের জন্য হেফাজতে পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

বুধবার এ দুই আসামিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করার পর মহানগর হাকিম আহমেদ হুমায়ুন কবির তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর শাকিরের বাবা চক্ষু বিশেষজ্ঞ এ কে এম ওয়ালিউল্লাহ রামপুরার বাসা থেকে সিআইডি পরিচয়ে তার ছেলেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন।

শাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সিটিটিসি এর প্রধান আসাদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শাকির নামের ওই চিকিৎসক কুমিল্লার ওই সাত শিক্ষার্থীকে ‘জিহাদে’ উদ্বুদ্ধ করে ঘর ছাড়িয়েছে।

“ওদের (সাত শিক্ষার্থী) রিক্রুট করেছে শাকির বিন ওয়ালি, এজন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা পাঁচ দিনের রিমান্ড পেয়েছি। তার কাছ থেকে তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে।”

সিটিটিসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থীর সাত তরুণের মধ্যে কারও কারও সঙ্গে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে সম্প্রতি এমবিবিএস পাস শাকিরের একাধিক বৈঠক হয়েছে।

জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করতে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে তদন্তে নেমে ধারণা করছে পুলিশ। এছাড়া ওইসব শিক্ষার্থী বাসা থেকে বের হওয়ার পর চিকিৎসক শাকের তাদের বিভিন্ন পর্যায়ে সাহায্য সহযোগিতা করেছে বলে প্রমাণ পেয়েছে সিটিটিসি।

এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক মিজানুর রহমান শাকির ও আবরারুলকে আসামি করে রামপুরা থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আবরারুল ও শাকির দুজনই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য বলে তারা নিজেরাই স্বীকার করেছেন। শাকির বিভিন্ন সময় নিভিন্ন সংগঠনের নামের আড়ালে আনসার আল ইসলামের মতাদর্শ প্রচার ও সদস্য সংগ্রহের কাজ করেছেন।

মামলায় বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু যুবক তার বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে গত ২০/২৫ দিন আগে বাড়ি থেকে তথাকথিত জিহাদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। শাকিরের সঙ্গে কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ সাত ছাত্রের যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া যায়।

শাকিরের বাবা ও স্ত্রীও এসব কাজে অর্থায়ন করে সহায়তা করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ২৩ অগাস্ট বাসা থেকে বের হয়ে সাত শিক্ষার্থী ফেরেননি বলে কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

এরপর তদন্তে নেমে ওই সাত শিক্ষার্থীদের নিরুদ্দেশ হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ। এখন পর্যন্ত তাদের খোঁজ না পেলেও ‘জঙ্গিবাদে’ উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা ঘর ছেড়েছে কি না তা তদন্ত কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। এর মধ্যেই শাকির বিন ওয়ালিকে গ্রেপ্তারের কথা জানাল সিটিটিসি।

তবে শাকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সত্য নয় বলে বুধবার সংবাদ সম্মেলেন তার বাবা ডা. ওয়ালিউল্লাহ দাবি করেন।

তিনি বলেন, “যেসব অভিযোগ আমার ছেলের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তা ঠিক নয় এবং তা আইনগতভাবে প্রমাণ করা হবে।”

শাকির বিন ওয়ালীর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের দূরতম কোনো সম্পর্ক থাকার প্রশ্নই আসে না দাবি করে তিনি বলেন, আমরা আইনের আশ্রয় নিতে চাই। তাকে গত চার দিন থেকে অবৈধভাবে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো আমরা আইনের মাধ্যমেই খণ্ডন করব।

কুমিল্লা থেকে সাত তরুণ নিখোঁজ হওয়ার পর সিটিটিসি কর্মকর্তারা কুমিল্লায় গিয়ে তাদের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

নিরুদ্দেশ ওই সাত শিক্ষার্থী হলেন- কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইমরান বিন রহমান (১৭) ও সামি (১৮), কুমিল্লা সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম (১৮) ও নিহাল আবদুল্লাহ (১৭), ভিক্টোরিয়া কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ইমতিয়াজ আহমেদ রিফাত (১৯), একই কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের আমিনুল ইসলাম আলামিন (২৩) ও ঢাকা ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করা সরতাজ ইসলাম ওরফে নিলয় (২৫)।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক