Published : 12 Nov 2025, 06:40 PM
সম্প্রতি ‘আইনজীবীর নেতৃত্বে হানি ট্র্যাপ চক্র, প্রেমের ফাঁদে জিম্মি করে টাকা আদায়’ শিরোনামে বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত একটি সংবাদের বিষয়ে মুখ খুলেছেন সেই আইনজীবী।
তিনি অভিযোগ অস্বীকার করার পাশাপাশি মানহানির অভিযোগের একটি মামলা করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
বুধবার নিম্ন আদালতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটি (সিআরইউ) এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলেন আইনজীবী জামাল উদ্দিন জুয়েল হানি ট্র্যাপ সংক্রান্ত সংবাদ ও মামলার করার বিষয়ে কথা বলেছেন।
ইসলামী আইনজীবী ফোরামের পরিবার ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জামাল উদ্দিন জুয়েল বলেন, মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমানের আদালতে তিনি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন৷
আদালত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে সিআইডিকে আগামী বছরের ১২ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে, বলেন তিনি।
২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ আসন থেকে ইসলামী আন্দোলনের টিকেটে প্রার্থী হওয়া জুয়েল মামলায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করার কথা বলেছেন। তিনি দলটির ঢাকা বার শাখার সহ-অর্থ সম্পাদক।
মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার এম এ আজিম (৩৫), সময় টেলিভিশনের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চিফ রিপোর্টার, হেড অব নিউজ, সিইও। এছাড়া সৌরভ হোসেন (২৫), ইসমাইল হোসেন (৩২) ও শফিকুল ইসলাম শাকিল (৪০) নামে তিন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জুয়েল বলেন, “লিজা আক্তার প্রিয়া নামে একজন মক্কেল আমার কাছে আসেন স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে মামলা করতে। আদালত আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। সৌরভ আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপসের শর্তে জামিন নেন। তবে জামিন নিয়ে আপস না করে আমাকে বিভিন্ন সময় সৌরভ হুমকি-ধামকি দেন। আমাকে হয়রানি করতে লেখালেখি শুরু করেন। পেশাগত সম্মান বজায় রাখতে আমি মামলা ছেড়ে দিই। এরপরও আমাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন। পরে কোতোয়ালি থানায় জিডি করি।”
‘হানি ট্র্যাপ’ চক্র বিষয়ে তার নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রচার বিষয়টি তুলে ধরে আইনজীবী জুয়েল বলেন, “রিপোর্টে লিজা ও আমাকে জড়িয়ে ছেলেদের ধরে ধরে ধর্ষণ মামলার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করছি বলা হয়েছে।”
সময় টিভির প্রতিবেদক আজিম তার চেম্বারে সাক্ষাৎকার নিতে যাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “কিন্তু আমি যেভাবে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলাম, তিনি এগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ না করে মিথ্যা তথ্যের উপর প্রতিবেদন প্রকাশ করলেন। শুধু তাই নয়, আমাকে জড়িয়ে চক্রে রূপান্তর করলেন।
“রিপোর্টে উল্লেখ করেন, দক্ষিণখান থানা এলাকায় আমার একটি চেম্বার রয়েছে। সেখানে নাকি আমি সৌরভকে আটকে রেখে ধর্ষণের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের লক্ষ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করি। তখন আমি অসুস্থ ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে সময় টিভি মিথ্যা, বানোয়াট, অসত্য তথ্য প্রচার করেছে।”
মামলায় জুয়েল অভিযোগ করেছেন, গেল ৫ নভেম্বর সময় টেলিভিশন ‘আইনজীবীর নেতৃত্বে হানি ট্র্যাপ চক্র, প্রেমের ফাঁদে জিম্মি করে টাকা আদায়’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে, যেখানে তাকে জড়ানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি নারী দিয়ে বিভিন্ন মানুষকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে পরবর্তীতে ধর্ষণ মামলার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করেন। এ সংবাদ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মিথ্যা।
জামাল উদ্দিন জুয়েল একজন ভুক্তভোগী নারীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছেন। তবে তিনি তাকে বা কোনো নারীকে ব্যবহার করে মানুষকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করেননি। এ প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী বাদী জামাল উদ্দিন জুয়েলের বিরুদ্ধে কোনো সুস্পষ্ট দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি আসামিরা। এমন মানহানিকর সংবাদ প্রচার করায় বাদীর পাঁচ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে।