Published : 26 Jan 2026, 10:30 PM
সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদা পূরণ ও সক্ষমতা বাড়াতে সমরাস্ত্র তৈরির কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
সোমবার বিকালে ঢাকারর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এসে এ সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে মিরসরাইয়ে ‘বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির’ উদ্যোগে এ কারখানা স্থাপন করা হবে।
‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ তৈরির বিষয়টি বিডার মাস্টার প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে জানিয়ে আশিক চৌধুরী বলেন, “সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ স্থাপন করা হবে।”
সোমবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
সভার সিদ্ধান্ত জানাতে বিকালে সংবাদ সম্মেলনে আসেন আশিক চৌধুরী। সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও ছিলেন।
সমরাস্ত্র কারখনা স্থাপনের যুক্তি হিসেবে আশিক চৌধুরী বলেন, “বৈশ্বিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা শিল্পে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে দেখা গেছে, হাইটেক অস্ত্রের চেয়ে গোলাবারুদ ও মৌলিক সরঞ্জামের সংকটই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’’
সমরাস্ত্র তৈরির কারখানাটি হবে মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গায়।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ইন্ডিয়ান ইকোনোকি জোন’ প্রতিষ্ঠায় ৮০০ একর জমি বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। ইকোনোমিক জোন প্রকল্প বাতিল হওয়ায় জমিটি অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে।
“বাংলাদেশ ‘হাইটেক’ (অত্যাধুনিক প্রযুক্তি) অস্ত্র তৈরি করবে না। যুদ্ধক্ষেত্র বা অন্যান্য প্রয়োজনে হাইটেক অস্ত্র বা যুদ্ধবিমানের সংকট তৈরি হয় না। মূলত ঘাটতি দেখা দেয় গুলি ও ট্যাংকের এক্সেলের মতো যন্ত্রাংশের।
‘‘বাংলাদেশ সেনবাহিনী তাদের চাহিদা অনুযায়ী এ ধরনের অস্ত্র তৈরি করবে। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর হয়ত বিস্তারিত জানা যাবে।’’
আশিক বলেন, ‘‘এটা শুধু রপ্তানিগত বিষয় নয়, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সুরক্ষার বিষয় হিসেবে দেখতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সাড়ে ৬০০ একর জমি নিয়ে ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ (এফটিজেড) প্রতিষ্ঠাসহ একগুচ্ছ সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরা হয়।
আশিক মাহমুদ বলেন, ‘ফ্রি ট্রেড জোনে’ দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তরা উৎপাদন, পুনঃরপ্তানি ও কাঁচামাল সংরক্ষণ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, “ফ্রি ট্রেড জোন প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি সংস্কার করা হবে।”
বিডা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস সভাটির সভাপতিত্ব করেন।
সেই সভার সিদ্ধান্ত জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘‘বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলার কর্মসংস্থান তৈরি ও দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে এই জোন। আমাদের অর্থনীতির হৃৎপিন্ডে পরিণত হবে এক সময়ে।’’
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বিডা, বেজাসহ ছয় সংস্থার গভর্নিং বডির সভায় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর উপস্থিত ছিলেন।
এক হচ্ছে ছয় বিনিয়োগ সংস্থা
বাংলাদেশের বিনিয়োগ অনুমোদন ও জমি বরাদ্দ বিষয়ক ছয় সংস্থাকে একীভূত করে একটি সংস্থায় আনার সিদ্ধান্ত হয় সভায়।
এ তালিকায় রয়েছে —বিডা, বেপজা, বেজা, বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরশেন), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ।
আগামী উপদেষ্টা পরিষদের সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে জানান আশিক মাহমুদ।
বিডা শুধু পৌর এলাকার বাইরে বিনিয়োগের অনুমতি ও জমি বরাদ্দ দিতে পরে। আইন সংশোধন করে এখন থেকে সারা দেশের পৌর এলাকাতেও বিনিয়োগের অনুমতি দিবে বিডা।
এর মাধ্যমে পৌর এলাকায় বিশেষ করে বিসিকের অব্যবহৃত প্লট ও বন্ধ থাকা রাষ্ট্রীয় মিল-কারখানাকে বেসরকারি পর্যায়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
সরকার কুষ্টিয়ার চিনিকলের ২০০ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার পরিকল্পনা করছে বলেও জানান আশিক।
বিডার এজেন্সি অফিস হবে বিদেশে
বিদেশি বিনিয়োগ আনতে প্রবাসীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এফডিআই স্কিমের আওতায় ‘ক্যাশব্যাক’ স্কিম নামের এই সুবিধায় কোনো বাংলাদেশি বিদেশি বিনিয়োগ আনলে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে মোট বিনিয়োগের মধ্যে থেকে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে।
অন্যদিকে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে বিডার এজেন্সি অফিস খোলা হবে বিদেশে। প্রথম দিকে চীন ও কোরিয়াতে অফিস খোলার অনুমতি দেওয়া হবে।
অফিসের যাবতীয় খরচ বহন করবে এজেন্সি নেওয়া দেশের প্রতিষ্ঠান। তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসা বিনিয়োগের বিপরীতে একটি অংশ কমিশন হিসেবে দেওয়া হবে।